সেই আল আমিনকে সহায়তা

বুয়েটে চান্স পেয়েও ভর্তি হতে পারছেনা আল আমিন’ শিরোনামে গত বুধবার (২১ জুন) দেশ রূপান্তরের অনলাইন সংস্করণে সংবাদ প্রকাশিত হয়। মুহুর্তের মধ্যেই সংবাদটি ছড়িয়ে পড়ে চারদিক। টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক, সখীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সমাজের বিত্তবানদের দৃষ্টিগোচর হয়।

বৃহস্পতিবার (২২ জুন) ব্যক্তিগত তহবিল থেকে সখীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা আলম ২০ হাজার টাকা, ওই দিন সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার ২০ হাজার টাকা এবং হাতিয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রহিজ উদ্দিন ৫ হাজার টাকাসহ মোট ৪৫ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান আল আমিনের হাতে তুলে দেন। এছাড়াও সখীপুর-বাসাইলের সাবেক সংসদ সদস্য অনুপম শাহজাহান জয় প্রতি মাসে আর্থিক সহযোগিতা, শ্রীপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার নূর মোহাম্মদ ভর্তি বাবদ সকল খরচ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

সখীপুরের কৃতিসন্তান, বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ডেসকোর পরিচালক প্রকৌশলী আতাউল মাহমুদ সামাজিক মাধ্যমে লিখেন, বুয়েট অ্যালামনাই শুধু অর্থনৈতিক নয় যে কোন প্রয়োজনে পাশে থাকবে। আল আমিনের মত মেধাবীরা সখীপুর থেকে বেরিয়ে আসুক এমন প্রত্যাশাও করেন। উপজেলা সাবেক মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মফিজুল ইসলাম আল আমিনকে স্যালুট জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে লিখেন এরাই আমাদের মডেল, আইকন। তুমি বাবা চাঁদ নও, তুমিতো নক্ষত্র। দরিদ্র অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থীকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদটি সর্বস্তরের পাঠকের মন জয় করে নেয়।

আল আমিন বলেন, আমার বাবা-দাদা ভ্যান চালিয়ে আমার পড়াশোনার খরচ চালাতেন। এমন একটি পরিবার থেকে পড়াশোনা করা অনেক কষ্টসাধ্য ছিল। আমার ও আমার পরিবারের স্বপ্ন পূরণে যারা পাশে দাঁড়িয়েছেন, সহযোগিতায় করেছেন তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতিও ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

গণমাধ্যমের প্রশংসা করে জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, গণমাধ্যম গণমানুষের পাশে দাঁড়ায় বলে আমরা আল আমিনদের পাশে দাঁড়াতে পারি। আল আমিন দেশের সম্পদ। টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন সব সময় তার পাশে থাকবে।

আল আমিনের জন্ম দরিদ্র পরিবারে। চার বছর বয়সে মা মারা যান। বাবা ভ্যানচালক। তবুও ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হবার স্বপ্ন নিয়ে চালিয়ে গেছেন পড়াশোনা। স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যলয়ে (বুয়েট) ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইপিই) বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন কৃতি এ শিক্ষার্থী।

এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ৩৮৭২তম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫তম, গুচ্ছতে ১০৭তম স্থান অধিকার করেন। পরিবারের সকল প্রতিকূলতাকে জয় করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার স্বপ্ন পূরণের প্রথম ধাপে পৌঁছালেও ভর্তি নিয়ে শঙ্কায় আল আমিনসহ তার পরিবার।