‘গোয়িং হোম’ নিয়ে আসছেন পিতা-পুত্র

আসছে জুলাইতে নিজের পরিচালিত দ্বিতীয় ছবি মুক্তি দিতে চান মাশরুর পারভেজ। অনেকেই জানেন, তিনি ঢালিউডের জীবন্ত কিংবদন্তি অভিনেতা সোহেল রানার সুযোগ্য পুত্র। মাশরুরের দ্বিতীয় ছবির নাম ‘গোয়িং হোম’। এ ছবিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ও করেছেন তিনি। আরেকটি আকর্ষণীয় বিষয় হলো, এই ছবির মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর অভিনয়ে ফিরছেন সোহেল রানা। এরই মধ্যে ছবিটির প্রচারণা শুরু হয়েছে। গত সপ্তাহেও বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভে ছবিটির একটি মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে সোহেল রানা তো ছিলেনই, সঙ্গে উপস্থিত হন চলচ্চিত্র অঙ্গনের অভিভাবকরা। মাশরুর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যে সব গুণিজনরা আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে এসেছিলেন তাদের প্রতি

কৃতজ্ঞতা। তারা আমার সিনেমার অংশ বিশেষ দেখে যে পরিমাণ প্রশংসা করেছেন তাতে আমি কনফিডেন্স পেয়েছি। সামনে আরও ভালো কাজের অনুপ্রেরণা তারা আমাকে দিয়েছেন। তাদের দোয়া ও শুভকামনা আমার সামনের দিনের পথচলা আরও মসৃন করবে।’

মাশরুরের ‘গোয়িং হোম’ অন্য আট দশটা ছবির মতো করে নির্মিত হয়নি। প্রথমত এটি তার নিজের জীবনের ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত। পাশাপাশি এর নির্মাণ কৌশল ছিল একেবারেই আলাদা। সিনেমাতে মাশরুর যে চরিত্রে অভিনয় করেছেন তার বয়স যেমন ঘটনাক্রমে বাড়ছিল, মাশরুর বাস্তব জীবনেও একই বয়স পার করছিলেন। সহজ করে বললে, তিনি এই সিনেমার শুটিং করেছেন কয়েক বছর ধরে। ফলে পর্দার চরিত্র আর বাস্তবের মধ্যে শিল্পীদের মিল ছিল।

এভাবে কাজ করার কারণ জানতে চাইলে মাশরুর বলেন, ‘আমি সব সময় সব পরিস্থিতিতে পজিটিভ বিষয়টি খোঁজার চেষ্টা করি। এই ছবিটির প্রযোজক আমি নিজেই। ফলে আমি টাকাটা আস্তে আস্তে জোগাড় করেছি, আর ছবিটি তৈরি করেছি। এই যে এত লম্বা সময় নিয়ে শুটিং করেছি, সেটাকে আমার ছবির দুর্বলতা না ভেবে গল্পটিও সেভাবেই সাজিয়েছি যাতে এই সময়টাই আমার ছবির প্লাস পয়েন্ট হয়। যারা ভিন্ন ধরনের ছবি দেখতে পছন্দ করেন, আশা করি তাদের কাজটি ভালো লাগবে।’

ছবিটির গল্প নিয়ে মাশরুর বলেন, ‘আমি বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। এজন্য বিদেশে অনেক আগে থেকেই একাধিকবার কাজের সুযোগ পেয়েও বাবা-মাকে রেখে যেতে চাইনি। বাবা-মায়ের কাছ থেকে কোনো বাধা ছিল না। কিন্তু নিজের দায়িত্ববোধ ও ভালোলাগার জায়গা থেকেই আমি তাদের সঙ্গে ছিলাম। এখনো আমি তাদের সঙ্গেই আছি, খুব ভালো আছি আলহামদুলিল্লাহ। তবে করোনার পর আমাকে বিদেশে যেতেই হয়। কাজের ফাঁকে সেখানে মাস্টার্সও করি। কিন্তু বাবা-মাকে ছেড়ে থাকাটা আমার কাছে বেশ কষ্টকর মনে হচ্ছিল। আমার বাড়ি ফেরার একটা তীব্র আকুতি ছিল। সেই বিষয়টি নিয়েই আমি ছবিটি করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘গোয়িং হোমের জার্নি কোথায় যাবে সেটা অবশ্য আমি আগে থেকেই জানতাম। কারণ আমার প্রথম ছবি রাইয়ানের সঙ্গে এটি কানেক্টেড। আমি কোথাও সেভাবে বলিনি যে আমার দুটি ছবিই আসলে সিক্যুয়াল। তবে আমার ছবিগুলোতে আমি যেটা করি তা হলো, কল্পনা থেকে আনা গল্পটির সঙ্গে আমি বাস্তব জীবনের অনুষঙ্গ যুক্ত করি। চুরি করলে সেটা নিজের জীবন থেকেই চুরি করি, সেটা বলতে আমার কোনো বাধা নেই। তবে আমার ছবি দেখে কেউ বলতে পারবে না অমুক বিদেশি ছবির ছায়া আছে, কিংবা গল্পের কোনো মিল আছে। আমি যদি কোনো সিনেমা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে থাকি, সেটা আমার ছোটবেলায় দেখা ছবিগুলো থেকেই। ফলে অভিনয় কিংবা পরিচালনা দুটো ক্ষেত্রেই আমি কখনো কোনো ছবি বা তার অভিনয় শিল্পীকে অনুকরণ করি না। নিজের মতো করেই মৌলিক একটি কাজ করার চেষ্টা করি।’