ষড়যন্ত্রকারীরা ঈদের পর দেশব্যাপী নাশকতার পরিকল্পনা করছে

দেশের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিকভাবে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরি দেশবাসীকে সচেতন থেকে বর্তমান উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা এবং প্রগতিশীল, উদার গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারা অব্যাহত রাখতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সাম্প্রতিক জাতীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে, ঈদুল আজহা সামনে রেখে বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

মিছবাহুর রহমান চৌধুরি বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা নানাবিধ চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে আওয়ামী লীগ সরকার তার সুদৃঢ় নেত্রীত্বে দ্রুততম সময়ে দেশের নজিরবিহীন উন্নতি করে চলছে। ব্রিজ, কালভার্ট, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজসহ নানা অবকাঠামো টেকসই উন্নয়নের জোয়ার দেখে বিশ্ববাসী অবাক বিস্ময়ে বাংলাদেশকে লক্ষ করছে।

তিনি বলেন, পদ্মার মতো দুরন্ত নদীর বুকে নিজ অর্থায়নে সেতু নির্মাণ, মেট্রোরেল, পাতাল রেল ইত্যাদি নির্মাণ করে দেখিয়ে দিয়েছেন আমরাও পারি। যারা ধাক্কা দিয়ে সরকার ফেলে দেওয়ার স্বপ্নে বিভোর ছিলেন তারা হতাশ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ, বয়কট, আংশিক অংশগ্রহণ প্রতিরোধ ইত্যাদি নাটক করে কোনো কুলকিনারা করতে না পেরে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা ঈদুল আজহার পর দেশব্যাপী নাশকতা শুরু করার পরিকল্পনা করছে। হত্যা, রাহাজানি, আগুন সন্ত্রাস করে দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা করছে, শোকের মাস আগস্টে এরা এদের কর্মসূচি জোরদার করবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন জনাব চৌধুরি।

চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শিখিয়েছেন। তার পিতা বাংলাদেশর স্থপতি বঙ্গবন্ধুর নীতি অনুসরণে আত্মমর্যাদা ও সম্মান নিয়ে বাঁচার প্রেরণা যোগাচ্ছেন। বার বার তাকে হত্যার প্রচেষ্টা চালিয়ে ষড়যন্ত্রকারীরা তাকে দমাতে পারেনি।

প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারা অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের অবদান উল্লেখ করে চৌধুরি বলেন, ১৯৭৮ সাল থেকে আমি এ দেশের মুরব্বি আলেম ও ইসলামপন্থীদের সাথে একত্রে রাজনীতি করেছি।
বিভিন্ন ইস্যুতে এক প্লাটফর্মে কাজ করেছি। ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি, কারাবরণ করেছি। আমরা শেখ হাসিনার সরকারকে দেশের স্বার্থে, মানুষের স্বার্থে, ধর্মের স্বার্থে অব্যাহত সমর্থন দিচ্ছি। এ সরকার থেকে কিছু পাওয়ার প্রত্যাশা করিনি।

তিনি উল্লেখ করেন, মহাজোট গঠনের পূর্বে ২০০৭ সাল ও পরবর্তীতে তিনি আমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তার একটিও রাখেননি। তার প্রতিশ্রুতি ছিল মহাজোটের সকলকে নিয়ে সরকার পরিচালনা করবেন। আমরা ছাড়া সকলের সঙ্গে তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন। আমার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ইসলামিক ঐক্যজোট প্রতিটি ক্রান্তিকালে তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম এবং দাঁড়াব। তবে তার সরকারের ভুল-ত্রুটির কথা বলতে আমরা কখনো তোয়াক্কা করিনি।

তিনি বলেন, দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীরা শুধু সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে তা নয় বরঞ্চ দেশের সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধেও মিথ্যাচার করে তাদের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

দেশপ্রেমিক স্বাধীনতার স্বপক্ষের সমমনা রাজনৈতিক দল, সংগঠন, শরীয়ত ও তরিকতপন্থীদেরকে নিয়ে আমরা একটি জোট গঠনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। শিগগিরই জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হবে। ষড়যন্ত্রকারী, মিথ্যাচারী, ধর্মের অপব্যাখ্যাকারীদের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করছে। এগুলো হল, আগামী ১৫ জুলাই শনিবার বাইতুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল, ১৭ জুলাই থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত ঢাকা মহানগরের সবকটি থানায় জনসভা, পথসভা ও কর্মিসমাবেশ, ২৯ জুলাই ঢাকার গুলিস্তান বশির অডিটরিয়াম এ সুধী সমাবেশ, ১ আগস্ট থেকে মাসব্যাপী বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মরণে নানা কর্মসূচি পালন এবং ৭ অক্টোবর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ।