স্ট্রোক ও মানসিক রোগ

স্ট্রোক হলে মস্তিষ্কের কোষগুলোর বেঁচে থাকার অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। রক্ত সরবরাহ দুই থেকে পাঁচ মিনিটের বেশি বন্ধ থাকলে স্নায়ুকোষ স্থায়ীভাবে ধ্বংস হয়। স্ট্রোক যেকোনো সময় ঘটতে পারে। মূলত হতাশা থেকেই স্ট্রোক ও মানসিক রোগ হতে পারে।

উপসর্গ : শরীরের কোনো একদিকে দুর্বলতাবোধ করা বা হাত-পা অবশ অবশ ভাব। মুখ একদিকে বেঁকে যাওয়া। প্রচ- মাথাব্যথা। কথা অস্পষ্ট হওয়া। বমি হওয়া বা বমি বমি ভাব। দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া। মুখের অসাড়তা বা কথা জড়িয়ে যাওয়া। বেসামাল হাঁটাচলা হঠাৎ খিঁচুনি বা ধপ করে পড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হওয়া ইত্যাদি।

করণীয় : ওপরের উপসর্গগুলো দেখা দিলে বুঝতে হবে স্ট্রোক হয়েছে। এমন হলে প্রথমেই রোগীকে কাত করে শুইয়ে দিতে হবে। এ অবস্থায় কোনো খাবার বা ওষুধ মুখে দেওয়া যাবে না। কারণ এগুলো শ^াসনালিতে ঢুকে আরও ক্ষতি করতে পারে। মুখে জমে

থাকা লালা, বমি পরিষ্কার করে দিতে হবে। গায়ে থাকা জামা-কাপড় ঢিলা করে দিতে হবে।

পরীক্ষা : স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে জরুরি ভিত্তিতে ব্রেনের রেডিওলজিক টেস্ট, সিটিস্ক্যান, এমআরআই করাতে হবে। ঘাড়ের রক্তনালির ডপলার, হার্টের সমস্যার জন্য ইকো পরীক্ষা করতে হবে। প্রয়োজনে এনজিওগ্রাম ও ইকোকার্ডিওগ্রাফি পরীক্ষাও করতে হবে।

চিকিৎসা : স্ট্রোক হলে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে হয়। ওষুধ প্রয়োগ করে রক্তের চাপ, রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হবে। প্রাথমিক ধাপ কাটিয়ে ওঠার পর দীর্ঘদিন ফিজিওথেরাপির প্রয়োজন হতে পারে।

প্রতিরোধে করণীয় : নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করতে হবে।  চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করা যাবে না। ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ করতে হবে। নিয়ম করে হাঁটা ভালো। দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার চেষ্টা করতে হবে। মানসিক চাপ কমাতে হবে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যাবে।