এইচআরডব্লিউ দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি বলেন, তাদের (এইচআরডব্লিউ) ওপর দায়িত্ব বিশ্বের মানবাধিকার নিয়ে কাজ করার। কিন্তু তারা কোনো এক অদ্ভুত কারণে যুদ্ধাপরাধের বিচারের সময় থেকে ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

গতকাল রবিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন সুগন্ধায় ডিপ্লোমেটিক করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ডিক্যাব) উদ্যোগে আয়োজিত ‘ডিক্যাব টক’–এ এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এইচআরডব্লিউ প্রসঙ্গে শাহরিয়ার আলম আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের পক্ষ থেকে হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে ডেকে কথাও বলা হয়েছে। তাদের বলা হয়েছে, কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করার আগে যেন রিভিউ করতে দেওয়া হয়, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু তারা তা করেনি। এরপর থেকে হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে ‘এনগেজ’ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

আগামী নির্বাচন নিয়ে সরকার কোনো চাপে নেই জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালে বিএনপিবিহীন নির্বাচনের পর একটি দেশ ছয় মাসের মধ্যে আবারও নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলেছিল। তখন এটিকে উচ্চাভিলাষী হিসেবে অভিহিত করেছিল সরকার। ওই সময়েও সরকার চাপে ছিল না এবং বর্তমানেও নেই।

তিনি আরও বলেন, ‘২০১৪ সালে দায়িত্ব গ্রহণের তিন দিন পর একটি ডিপ্লোমেটিক ব্রিফিংয়ের আয়োজন করি। ওই ব্রিফিংয়ে বিদেশি রাষ্ট্রদূতরা নেতিবাচক কিছু বলেননি। কিন্তু একজন তাদের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেছিলেন, বর্ষার আগে তারা আরেকটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চান। আমি এ প্রশ্নের জন্য তৈরি ছিলাম না এবং এজন্য আমার কোনো নোটও প্রস্তুত ছিল না। তারপরও আমি সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিয়েছিলাম যে এটি একটি অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী বিষয়।’

শাহরিয়ার আলম বলেন, ২০১৪ থেকে শুরু করে ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগ পর্যন্ত ওই সরকারের সময়ে সবচেয়ে বেশি আইন প্রণয়ন হয়েছে। সবচেয়ে বেশি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে কেবিনেটে এবং সেটি অত্যন্ত গতিশীল একটি সরকার ছিল। তাই আমি বলতে চাই ২০১৪ সালে যদি আমরা চাপ অনুভব না করি, বর্তমান সময়ে কোনো কিছুতে আমরা চাপ অনুভব করব না। সংবিধান যতদিন আছে , সরকারের ম্যান্ডেট যতদিন আছে, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সরকার সিদ্ধান্ত নিয়ে যাবে। কাজ করে যাবে দ্ব্যর্থহীনভাবে।’