ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বিপিএম বলেছেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৪ ঘণ্টা মাঠে থেকে কাজ করছে পুলিশের সকল ইউনিট ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আজ সোমবার (২৬ জুন) সকাল ১১টায় আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক গাবতলী বাস টার্মিনাল ও কোরবানির পশুর হাট পরিদর্শন করেন। এরপর ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন আইজিপি।
আইজিপি বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গত ঈদুল আযহার ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক ছিল, জনগণ স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছেন। গতবারের অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা এবারও আমাদের নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি। এবারের ঈদ অন্যান্য ঈদের চেয়ে একটু ভিন্ন। গত ঈদে শুধু যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। এবার যাত্রীর পাশাপাশি কোরবানির পশু পরিবহন, পশুর হাটের ও মৌসুমী ফল পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা সবকিছু বিবেচনায় রেখেই আমাদের নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজিয়েছি।
বেপারীদের পশুবাহী ট্রাক ও ট্রলারে গন্তবের নাম লিখে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পশু বাহী ট্রলার বা ট্রাক নিয়ে টানাটানি করার অভিযোগ পেলে পুলিশ সাথে সাথে ব্যবস্থা নিবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ছিনতাইকারী ও জাল নোট সরবরাহকারীদের গ্রেপ্তার করে তাদের কাছ থেকে ৩ কোটি ৬১ লাখ জাল টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে প্রতারকরা যাতে জাল নোট বাজারজাত করতে না পারে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
পাশাপাশি ঈদে ঘরমুখো সাধারন মানুষের যাত্রাপথে ও পশুর হাটে ছিনতাই, মলম ও অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা কোন প্রকার নাশকতামূলক কার্যক্রম করলে তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে বলে জানান পুলিশ প্রধান।
নগরবাসীর উদ্দেশে আইজিপি আরও বলেন, ঈদের ছুটিতে শহর ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে যাবার সময় মূল্যবান মালামাল নিরাপদ হেফাজতে রেখে যাবেন। পর্যটন কেন্দ্রে জনসমাগম ঘটবে। আমাদের সদস্যরা আপনাদের সেবায় নিয়োজিত থাকবে।
কোনো ধরনের সমস্যা হলে নিকটস্থ থানা অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করার অনুরোধ করেন তিনি।
যাত্রী সাধারণের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে আইজিপি বলেন, অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাস, লঞ্চ ও ট্রেনে ভ্রমণ করবেন না। ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করবেন না।
ঈদযাত্রাকালে যানজটকালীন ভুক্তভোগীর অভিযোগগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে মোটরসাইকেলবাহী পুলিশের বিশেষ টিম কাজ করবে বলে জানান তিনি।
সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে গরু চুরির অভিযোগ প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, সবগুলো হাটে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন, হাটে গরু চুরির ঘটনা ঘটলে জানানো মাত্র ব্যবস্থা নিবে।
আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার গাবতলী বাস টার্মিনাল ও কোরবানির পশুর হাট পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ পুলিশ ও ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন পরিবহন মালিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দবৃন্দ ও পশুর হাটের ইজারাদাররা উপস্থিত ছিলেন।