শতভাগ সেবা নিশ্চিত হয়নি স্বীকার করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতি চলছে বলে অভিযোগ করেছেন সংসদে বিরোধীদলীয় সদস্যরা। তারা বলেছেন, এটি এমন একটি মন্ত্রণালয় সেখানে প্রতি বছর মন্ত্রী বাজেটের অর্থ খরচ করতে পারেন না, অথচ দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা বেহাল, স্বাস্থ্য খাতে জনবল নেই, ডাক্তার ও নার্স নেই। জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, স্বাস্থ্য খাতে শতভাগ সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না এটা ঠিক, তবে কভিড টিকা দেওয়ায় রেকর্ডসহ দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।

গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেটে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে মঞ্জুরি দাবির ওপর ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনাকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের কঠোর সমালোচনা করেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টি, গণফোরাম ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা। জবাবে মন্ত্রী বলেন, নানা জটিলতার কারণে শত ভাগ সেবার মান নিশ্চিত করা যায়নি। এ ক্ষেত্রে দক্ষ জনবল ও টেকনিশিয়ানের অভাব রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন সাপেক্ষে ইতিমধ্যে জনবল বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন অনিয়ম এবং দুর্নীতির কারণে ছয়টি মেডিকেল কলেজ ও ১ হাজার ৮০০ ক্লিনিক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রাইভেট হাসপাতালে সেবার মান বাড়াতে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকার হাসপাতালগুলোর পরিচালনা পর্ষদের কমিটিতে রয়েছেন। এ ক্ষেত্রে তাদেরও মনিটরিং করার সুযোগ রয়েছে। তারা সতর্ক হলে সেবার মান ভালো হবে।

১৫টি জেলায় ৩৩৫ বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপন হয়েছে : দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান সংসদকে জানিয়েছেন, গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা) ও গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় দেশের অধিক বজ্রপাতপ্রবণ ১৫টি জেলায় ৩৩৫টি বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য মোরশেদ আলমের প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, দেশের অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১৫ জেলায় বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৬ হাজার ৭৯৩টি বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপনের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করে অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে পর্যায়ক্রমে তা স্থাপন করা হবে।

এ বছর পৌনে ১১ লাখ কর্মী বিদেশে গেছেন : বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী

চলতি অর্থবছরের (২০২২-২৩) ১৫ জুন পর্যন্ত ১০ লাখ ৭৪ হাজার ৫৫২ জন কর্মী বাংলাদেশ থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কাজের উদ্দেশ্যে গেছেন বলে সংসদে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান।

সরকারি দলের সদস্য আলী আজমের প্রশ্নের লিখিত জবাবে মন্ত্রী আরও জানান, গত অর্থবছরের (২০২১-২২) একই সময়ে (১৫ জুন, ২০২২) ৯ লাখ ৭ হাজার ৭ জন বিদেশে গিয়েছিল। গত বছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে ১৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেশি কর্মী বিদেশে গেছেন।

সরকার দলের সদস্য হাবিবর রহমানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী ইমরান আহমদ জানান, জনশক্তি রপ্তানির উদ্দেশ্যে নতুন নতুন দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে লিবিয়া, মাল্টা, আলবেনিয়া, রোমানিয়া ও সার্বিয়ার সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।