আধুনিকতার ছোঁয়ায় কোরবানির পশু পরিবহনেও এসেছে ভিন্নতা। একটা সময় গরুর গলায় লাগানো রশি ধরে ক্রেতা-বিক্রেতারা গরু আনা নেওয়া করলেও সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বদলে গেছে সেই চিত্র। বর্তমানে কোরবানির হাটের অধিকাংশ পশুই পরিবহন করা হচ্ছে ছোট-বড় যানবাহনে। এই খাতে শুধু চাঁদপুরেই লেনদেন হচ্ছে প্রায় ১৬ কোটি টাকা।
ঈদের আগে বাড়তি আয়ের সুযোগ হওয়ায় চাঙ্গা হয়ে ওঠেছে পরিবহন শ্রমিকরা। আর স্বল্প সময়ে ঝামেলা বিহীনভাবে গরু আনা নেওয়া করতে পারায় খুশি ক্রেতা-বিক্রেতাও।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে চাঁদপুরে জমে উঠেছে পশু কেনা-বেচার হাট। সকাল থেকেই বিভিন্ন সাইজের গরু, ছাগল হাটে তুলছেন বিক্রেতারা। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে ক্রেতারাও ঘুরে ঘুরে পছন্দের পশুটি কিনে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন।
হাজীগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর এলাকা থেকে ভাই, ভাজিতাসহ সফরমালী হাটে গরু কিনতে এসেছেন খাজা আব্দুল্লাহ। বাজার ঘুরে নিজেদের পছন্দের পশুটি কিনে ছুটলেন পিকআপ ভ্যানের দিকে। আগে হাট থেকে কেনা গরু নিয়ে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরলেও যোগাযোগ সহজলভ্যতার কারণে এখন যানবাহনই ভরসা। এতে স্বল্প সময়ে গন্তব্যে পৌঁছার পাশাপাশি এড়ানো যাচ্ছে দুর্ভোগ।
খাজা আব্দুল্লাহ বলেন, আগে অনেক কষ্ট হতো গরু হাটিয়ে নিতে। এতে সময়ও ব্যয় হতো অনেক। কিন্তু এখন রাস্তাঘাট উন্নত হওয়ায় খুব সহজেই গরু পরিবহনে করে বাড়ি নেওয়া যায়। এতে করে গরুও দীর্ঘপথ হাঁটার কষ্ট থেকে মুক্তি পায়।
শহরের তালতলা গাজী বাড়ি এলাকার বাসিন্দা নিশাত সরকার বলেন, শহরতলী কিংবা প্রত্যন্ত গ্রাম, সকল জায়গাতেই পরিবর্তন এসেছে কোরবানির হাটে পশু পরিবহনের চিত্রে। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি আধুনিকতার ছোঁয়ায় অধিকাংশ মানুষ পশু নিয়ে যাচ্ছেন পরিবহনে করে। এতে গরু নিয়ে রাস্তায় টানাহেচঁড়ার বিড়ম্বনা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাচ্ছে। তবে এতে করে হাট থেকে হেঁটে গরু নিয়ে যাওয়ার মজা থেকে বঞ্চিতও হচ্ছে মানুষ।
গরু বিক্রেতা জাকির হোসেন বলেন, যানবাহনে করে পশু পরিবহন করায় ন্যায্যমূলে বিক্রি করার সুযোগ পাওয়া যায়। এক হাটে গরুর দাম ভালো পাওয়া না গেলে দ্রুত অন্য হাটে নিয়ে যাওয়া যায়। তাছাড়া পশুগুলো ক্লান্তিহীন ভাবে স্বল্প সময়ে অনেক রাস্তা পাড়ি দিতে পারছে। একসঙ্গে অনেক পশু হাটে তোলার সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে খামারিদের।
ঈদের হাটে গরু আনা নেওয়া কাজে জড়িত পিকআপ চালক মিলন মিয়া বলেন, চাঁদপুরের বিভিন্ন হাটে গরু আনা নেওয়ার কাজে প্রায় ৭-৮শ’ ছোট বড় পিকআপ ভ্যান ও ট্রাক নিয়োজিত রয়েছে। পাঁচশ’ থেকে শুরু করে দূরত্ব বুঝে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া নিচ্ছেন চালকরা। দিনে ৫-৬ বার ভাড়া পাচ্ছি। গরু ক্রেতা কিংবা বিক্রেতা সবাই এখন গাড়িতে করেই গরু আনা নেওয়া করে থাকেন। ঈদের আগে বাড়তি আয়ের সুযোগ পেয়ে আমাদের ঈদটাও ভালো কাটে।
চাঁদপুর সদর উপজেলার সফরমালী গরুর হাটের পরিচালক আব্দুল আজিজ খান বলেন, মানুষ এখন যেসব হাটে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত সেখানে বেশি ভিড় করে। হাট থেকে গরু কেনা ৮০ ভাগ মানুষ পিকআপ ভ্যানে করে গরু পরিবহন করে থাকেন। এতে সময় ও শ্রম উভয়ই বাঁচে।
জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. বখতিয়ার উদ্দিন বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে চাঁদপুর জেলায় স্থায়ী অস্থায়ী মিলিয়ে মোট শতাধিক হাটে কোরবানির পশু বেচাকেনা হচ্ছে। বিভিন্ন হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের গরু পরিবহন করে পরিবহন শ্রমিকদের প্রায় ১৬ কোটি টাকা মুনাফা হচ্ছে। এতে তারা আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন। এবছর চাঁদপুরে প্রায় ৭০ হাজার কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে। যার আনুমানিক আর্থিক মূল্য প্রায় সহস্রাধিক কোটি টাকা বলে জানান তিনি।