ফের সাংবাদিকতায় জনসন

বরিস জনসন ডেইলি মেইলে কলামিস্ট হিসেবে যোগ দিয়েছেন। কেলেঙ্কারির জেরে এমপি হিসেবে পদত্যাগের পর পুরনো পেশায় ফিরে গেলেন তিনি। ডেইলি মেইলে কলাম লিখে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের এবার তিনি ধরাশায়ী করবেন, এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া    

কলামিস্ট জনসন

জনসন আর কেলেঙ্কারি শব্দ দুটি সমার্থক। জনসন কোনো পদে থাকবেন আর সেখানে তিনি কেলেঙ্কারি করবেন না, তা হতে পারে না। হ্যাঁ, কথা হচ্ছে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে নিয়ে। গত বছর একের পর এক কেলেঙ্কারির জেরে তাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হয়। এরপর যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্সে নিজের আসন থেকেও বিদায় নেন জনসন। করোনাভাইরাস মহামারীর সময় লকডাউন চলাকালে বিধিনিষেধ ভেঙে পার্টি আয়োজন ও সেই আয়োজন নিয়ে পার্লামেন্টকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরপরই চলতি বছরের ১০ জুন জনসনের এমপি পদ ছাড়ার ঘোষণা আসে। এই ঘোষণার পর তার রাজনৈতিক জীবন এবং সেখান থেকে তার পতন নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম যখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছিল, ঠিক তখনই আরেকটি খবর তাদের চমকে দিল। এমপি হিসেবে পদত্যাগের এক সপ্তাহ পর জানা গেল, যুক্তরাজ্যের সাবেক এই কেলেঙ্কারিপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী নতুন চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। ব্রিটেনের বিখ্যাত ট্যাবলয়েড ডেইলি মেইলের কলামিস্ট হয়েছেন বরিস জনসন। সাংবাদিকতা দিয়ে পেশাগত জীবন শুরু করেছিলেন জনসন। আবার তিনি সেই পুরনো পেশাতেই ফিরলেন। প্রতি শনিবার ডেইলি মেইলে একটি করে কলাম লিখছেন ৫৯ বছর বয়সী জনসন। তার এই নতুন চাকরি নিয়ে ডেইলি মেইলের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘কেউ বরিস জনসনের ফ্যান হোন বা না হোন, তার লেখা মানুষ পড়বেই। ওয়েস্টমিনস্টার থেকে শুরু করে বিশ্বের লাখো মানুষ জনসনের কলামের একনিষ্ঠ পাঠক।’ যুক্তরাজ্যের অন্যতম বিভাজন সৃষ্টিকারী রাজনীতিক জনসন গত বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগের পর কেবল সভা-সেমিনারে বক্তৃতা দিয়েই লাখ লাখ পাউন্ড কামিয়েছেন। ডেইলি মেইল তাকে মোটা অঙ্কের বেতন  দেবে, এটাই স্বাভাবিক। তা ছাড়া ডেইলি মেইল জনসনের কট্টর সমর্থক, তা কারও অজানা নয়। লকডাউনের সময় বিধিনিষেধ ভেঙে পার্টি আয়োজন নিয়ে সংসদীয় কমিটি যেদিন জনসনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রমাণ পায়, তার পরদিন ব্রিটিশ ওই সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ইমেজে কাদা ছেটায় সংবাদমাধ্যমগুলো। তাদের প্রথম পাতাজুড়ে সেদিন জনসনকে ঘিরে সমালোচনার তীব্র ঝড় বয়ে যায়। লক্ষণীয় বিষয়, সব পত্রিকা সে সময় সরব থাকলেও যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় ও প্রভাবশালী ট্যাবলয়েড ডেইলি মেইল একেবারে চুপ ছিল, যা অনেকের কাছে দৃষ্টিকটু ঠেকেছিল। ডেইলি মেইলে জনসনের কলাম লেখার খবর দেওয়ার সময় পত্রিকাটি রহস্যের আশ্রয় নেয়। কোনো নাম উল্লেখ না করে তারা জানায়, ‘এক পণ্ডিত ব্যক্তি আমাদের নতুন কলামিস্ট হতে যাচ্ছেন।’ পরে ডেইলি মেইলের মুখপাত্র শোন ওয়ালশ নিশ্চিত করেন, সেই রহস্যময় লেখক আর কেউ নন বরিস জনসন, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। ওয়ালশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন ডেইলি মেইলের অনলাইনে জনসনের প্রথম সাপ্তাহিক কলাম প্রকাশিত হওয়ার একটু আগে। পরের দিন পত্রিকার পাতায় কলামটি ছাপা হবে বলেও জানান তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেইলি মেইল জনসনকে এমন এক শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম দিয়েছে যেটি নিজের স্বার্থে পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারবেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। চলমান রাজনৈতিক বাদানুবাদ ঘিরে নিজস্ব মতামত প্রকাশ থেকে শুরু করে কড়া ভাষায় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের সমালোচনা করতে পারবেন জনসন। ভুললে চলবে না, দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সুনাক একসময় তার সরকারেরই মন্ত্রী ছিলেন। এখন তারা পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী। জনসনকে এই প্ল্যাটফর্ম ডেইলি মেইল জেনেবুঝেই দিয়েছে।

লকডাউনের বিধিনিষেধ ভঙ্গ সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন জনসন। তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার এমনটা বলেছিলেন। একই সঙ্গে ওই প্রতিবেদনকে প্রহসন হিসেবেও এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন তিনি। এটা পরিষ্কার, প্রধানমন্ত্রী পদ, এমপি পদ চলে গেলেও জনসন চুপ থাকবেন না। ডেইলি মেইলের কলামিস্ট হওয়া তার আলোচনায় থাকার প্রথম পদক্ষেপ। ব্রিটিশ পত্রিকা ফিন্যানশিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে সম্প্রতি বলা হয়, লন্ডনের মেয়র নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন জনসন। ২০০৮ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত লন্ডনের মেয়র ছিলেন তিনি।

নাটকীয়তা

জনসনের চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য নাটুকেপনা। ক্ষমতায় থাকাকালে বিভিন্ন সময়ে নাটকীয়তার আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। এখন তিনি ক্ষমতায় নেই। তা সত্ত্বেও তিনি যে নাটকীয়তা ছাড়তে পারেননি, তা তার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে স্পষ্ট। ডেইলি মেইলের চাকরিকে কেন্দ্র করে তিনি নতুন নাটক হাজির করেন। জনসনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি ব্রিটেনের মন্ত্রিপরিষদের নিয়ম ভঙের অভিযোগ উঠেছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ ডেইলি মেইলে তার চাকরি করার সিদ্ধান্ত ব্রিটিশ সরকারের উপদেষ্টা কমিটির সঙ্গে পরামর্শ করেননি তিনি, যা নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগের দুই বছর কেউ যদি যুক্তরাজ্য সরকারের কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে তাকে অবশ্যই সরকারের উপদেষ্টা কমিটিকে বিষয়টি জানাতে হবে। এই নিয়ম জনসন জানতেন না, তা নয়। কিন্তু তিনি নিয়ম মেনে কাজ করতে রাজি ছিলেন না। অভিযোগ উঠুক, তাকে নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হোক, এমন নাটকই চেয়েছিলেন তিনি এবং আদতে তাই হয়েছে। উপদেষ্টা কমিটি জানিয়েছে, ডেইলি মেইলে কলাম লেখার সিদ্ধান্ত সবাইকে জানানোর মাত্র ৩০ মিনিট আগে কমিটিকে অবহিত করেছিলেন জনসন। এটি নিয়মের স্পষ্ট লঙ্ঘন। ওই উপদেষ্টা কমিটির নাম অ্যাডভাইজরি কমিটি অন বিজনেস অ্যাপয়েন্টমেন্টস। এক বিবৃতিতে কমিটি জানিয়েছে, ‘মন্ত্রিপরিষদের নিয়মে বলা আছে, মন্ত্রীদের নিশ্চিত করতে হয় কমিটির সঙ্গে পরামর্শ না করে তারা কোনো নতুন চাকরিতে যোগ দিতে পারবেন না। নিয়োগের ঘোষণা দেওয়ার ৩০ মিনিট আগে আবেদনপত্র পাঠানো নিয়মের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আমরা এ নিয়ে বরিস জনসনকে তার কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছি।’ এ বিষয়ে বরিস জনসনের মুখপাত্র বলেন, ‘অ্যাডভাইজরি কমিটি অন বিজনেস অ্যাপয়েন্টমেন্টসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বরিস জনসন। স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে।’ পুরো ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ ও উপদেষ্টা কমিটিকে ‘দন্তহীন’ উল্লেখ করে লেবার পার্টির নেতা অ্যাঞ্জেলা রেনার বলেন, ‘বরিস জনসন আবারও নিয়ম ভঙ্গ করলেন। নিজের সুবিধার জন্য ভঙ্গুর ব্যবস্থার সুযোগ নিচ্ছেন তিনি।’

সাংবাদিকতার যাত্রা

সাংবাদিকতা পেশা বরিস জনসন শুরু করেন আশির দশকের শেষে। ১৯৮৭ সালে লন্ডনের ওয়েস্ট কেনসিংটনে স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন জনসন। ওই সময় একটি ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্সি কোম্পানিতে যোগ দেন তিনি। এক সপ্তাহ পর ওই চাকরি ছেড়ে দেন জনসন। ওই বছরের শেষের দিকে তিনি ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য টাইমসে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ শুরু করেন। তার এক আত্মীয় ওই চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। চাকরি শুরুর কিছুদিন পরই কেলেঙ্কারি ঘটান জনসন। রাজা সপ্তম এডওয়ার্ডের রাজপ্রাসাদের প্রতœতাত্ত্বিক আবিষ্কার নিয়ে দ্য টাইমসে একটি নিবন্ধ লিখেছিলেন জনসন। সেই নিবন্ধে তিনি একটি উদ্ধৃতি ব্যবহার করেন, যা কেউ বলেননি, পুরোটাই তার কল্পনা। কল্পনা হলেও ইতিহাসবিদ কলিন লুকাসকে জনসন উদ্ধৃতিকারী হিসেবে চালিয়ে দেন। বিষয়টি দ্য টাইমস পত্রিকার সম্পাদক চার্লস উইলসন জানতে পারলে জনসনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। এরপর জনসন দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফে যোগ দেন। ওই পত্রিকায় প্রকাশিত তার নিবন্ধ রক্ষণশীল, মধ্যবিত্ত, মধ্যবয়স্ক পাঠকদের আকৃষ্ট করে। জনসনের লেখার আলাদা ধরন, সেকেলে শব্দ ও বাক্যাংশের বহুল ব্যবহার, পাঠকদের সবসময় ‘আমার বন্ধুরা’ বলে সম্বোধন এসব ব্রিটিশরা পছন্দ করেন। ১৯৮৯ সালের শুরুতে দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকার ব্রাসেলস ব্যুরো হিসেবে নিয়োগ পান জনসন। তার কাজ ছিল ইউরোপীয় কমিশন নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করা। ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত ওই পদেই ছিলেন তিনি। ইউরোপীয় কমিশনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জ্যাক দেলোর কট্টর সমালোচক ছিলেন জনসন। তার এই অবস্থান তাকে ব্রাসেলসের হাতেগোনা কয়েকজন ইউরোস্কেপ্টিক (ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্রমবর্ধমান ক্ষমতার যিনি বিরোধিতা করেন) সাংবাদিকে পরিণত করে। নব্বই দশকে জনসন ওয়ার রিপোর্টার হতে চেয়েছিলেন। দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফের সম্পাদক ম্যাক্স হেস্টিংসকে এ জন্য তিনি অনুরোধও করেন। হেস্টিংস তার অনুরোধ অবশ্য রাখেননি। বরং ১৯৯৪ সালে তিনি জনসনকে পদোন্নতি দিয়ে সহকারী সম্পাদক ও প্রধান রাজনৈতিক কলামিস্ট করেন। জনসনের কলাম অনেক বিশ্লেষণমূলক ছিল, যা সে সময় পাঠক মহলে প্রশংসিত হয়।

২০২১ সালের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে বরিস জনসন একবার বলেছিলেন, রাজনীতির জন্য তিনি সাংবাদিকতা ছেড়েছিলেন কারণ মানুষের পরিস্থিতি বিবেচনা না করে সাংবাদিক হিসেবে তাদের আক্রমণ বা গালাগাল করার জন্য একপর্যায়ে তিনি অপরাধবোধে ভোগেন। কথাগুলো তিনি বলেছিলেন দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের সেজহিল অ্যাকাডেমি নামে এক স্কুলের শিক্ষার্থীদের। তিনি তাদের আরও বলেন, ‘সাংবাদিকতা মহান পেশা। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, সাংবাদিকরা কখনো কখনো মানুষকে আক্রমণ বা গালাগাল করে বসে। বিষয়টি এমন নয়, তারা এসব করতে চায় বা তাদের করতে ভালো লাগে। কিন্তু সাংবাদিকদের সবসময় সমালোচনা করতে হয়। এটা করতে গিয়ে তাদের খেয়াল থাকে না, যাদের সমালোচনা তারা খুব কঠোরভাবে করছেন, তাদের জায়গায় তারা নিজেদের কখনো বসিয়েছেন কি না। আমি নিজে এই কাজ করেছি। তাই বুঝতে পারার পর নিজেকে অপরাধী মনে হয়েছে।’

জনসন ওই সময় স্কুলশিক্ষার্থীদের সামনে অপরাধবোধে ভোগার কথা বললেও অনেকের হয়তো মনে আছে সাংবাদিকতা করার সময় তিনি তার কলামে মানুষদের সম্পর্কে কী পরিমাণ অবমাননাকর শব্দ বা বাক্য ব্যবহার করতেন। তখন তার মনে হয়নি, যাদের তিনি নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করছেন, সেসব ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের কর্মকাণ্ড তার বিবেচনা করা উচিত ছিল। ২০১৮ সালে দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফের এক কলামে বোরকা পরা নারীদের সম্পর্কে জনসন বলেছিলেন, যারা বোরকা পরে, তাদের হাঁটার সময় মনে হয় কোনো মানুষ না, চিঠির বাক্স হাঁটছে। কখনো কখনো এই নারীদের ব্যাংক ডাকাতও মনে হয় তার। ২০০২ সালে একই পত্রিকায় কৃষ্ণাঙ্গদের সম্পর্কে জনসন অত্যন্ত অবমাননাকর মন্তব্য করেছিলেন। এর আগে ১৯৯৮ সালে সমকামী পুরুষদের নিয়েও একই ধরনের মন্তব্য করেন তিনি। জনসনের রাজনৈতিক মতাদর্শ যাই হোক না কেন, ২০১৬ সালে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পর যখন তিনি কলাম লেখা ছেড়ে দেন, সে সময় তিনি বছরে ২ লাখ ৭৫ হাজার পাউন্ড আয় করতেন। প্রতি শব্দে তাকে ওই সময় ৪.৮০ পাউন্ড দেওয়া হতো। এখন ডেইলি মেইলে কলামিস্ট হিসেবে তার পারিশ্রমিক নিশ্চয়ই এর চেয়ে কম হবে না।