রাত পোহালেই মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনে বেড়েছে ঘরমুখো মানুষের ভিড়। এবারের ঈদে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ আশেপাশের অঞ্চল থেকে এক কোটি ১০ লাখের বেশি মানুষ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করবে। এছাড়াও এক জেলা থেকে অপর জেলায় আরো প্রায় ৪ কোটি মানুষের ঈদে বাড়ি যাবে। সোমবার ঈদের আগে ছিল শেষ কর্মদিবস। অফিস শেষ করেই কিছু মানুষ ঈদ যাত্রায় বাড়ি গেলেও যারা যেতে পারেনি তারা বাড়ি যাচ্ছেন আজও। যার ফলে শেকড়ের টানে বাড়ি ফিরতে বাস টার্মিনালমুখী ছুটতে দেখা যায় বহু মানুষকে।
তবে রাজধানীর প্রবেশপথগুলো পার হতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয় এসব যাত্রীদের। মূলত মহাসড়কের পাশে পশুর হাটের জন্য যানজটের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তবে এরই মাঝে জরুরি সেবায় নিয়োজিত অনেক কর্মীর ঈদ করতে হবে ইট পাথরের নগরী ঢাকাতে। কারণ সবাইকে এক সাথে ছুটি কাটাতে পারে না জরুরি সেবায় নিয়োজিত এসব কর্মীরা। তাদেরই একজন বরগুনা জেলার ২১ বছরের হাফিজুর রহমান।
মগবাজার এলাকার এটিএম বুথে চাকরি করা এই কর্মী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঈদে বাড়ি যাওয়া আমাদের কপালে নেই। গরিব মানুষ কাজেই থাকতে হয়। কখন ঈদ আসে কখন যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে পারি না। প্রথম চাকরি করছি, পরিবার ছাড়া ঈদে একা ঢাকায় থাকতে তো একটু খারাপ লাগবেই।
মৌচাক মোড়ের আরেক এটিএম বুথের দারওয়ান হাসান বলেন, আমার বাড়ি গোপালগঞ্জ। বাসায় বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তান রেখে কোরবানির ঈদে ঢাকায়ই থাকবো। মানুষের সহযোগিতার জন্য এটিএম বুথ ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। তাই আমরাও নিরাপত্তায় থাকি। আমি যেতে না পারলেও আমার অন্য এক সহকর্মী যাবে গ্রামের বাড়িতে।
যদিও সবার সাথে গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে পারলে ভালো হতো বলে জানান এই কর্মী।
প্রাইভেট কোম্পানির সিকিউরিটিতে কাজ করে রাকিব নামে একজন বলেন, আমরা পরিবার নিয়ে খুব কম সময়ই আনন্দ করতে পারি। মানুষকে সেবা দেয়াই আমাদের কাজ। ঝড়-বৃষ্টিতেও আমরা আমাদের কাজ চালিয়ে যাই। এখন ঈদ আসুক বা অন্য কোন উৎসব আসুক এগুলোতে আমাদের কোন কিছু আসে যায় না।