বোনকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করতে গিয়ে ফেনীর ছাগলনাইয়ায় বখাটের ছুরিকাঘাতে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৩০ জুন) উপজেলার শুভপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তরুণের নাম রবিউল হক ওরফে শাহেদ (২০)। তিনি উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে। রবিউল এক্সকাভেটর চালকের সহকারীর কাজ করতেন।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে রবিউল হক ছোট বোনসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শুক্রবার বিকেলে শুভপুর ইউনিয়নের শমসের গাজীদীঘি এলাকায় বেড়াতে যান। সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা কয়েক তরুণ রবিউলের ছোট বোনকে উত্ত্যক্ত করেন। রবিউল তখন প্রতিবাদ করলে তারা ক্ষিপ্ত হন। এ নিয়ে একপর্যায়ে তর্কাতর্কি হয়। সেখান থেকে ফিরে শুভপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ফজলুর রহমানের কাছে বিচার দেন রবিউল।
ইউপি সদস্য উভয় পক্ষকে সন্ধ্যায় শুভপুর বাজারে ব্যক্তিগত কার্যালয়ে ডাকেন। সেখানে যাওয়ার পর রবিউলের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন অভিযুক্ত তরুণেরা। একপর্যায়ে রবিউলকে উপর্যুপরি বুকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক রবিউলকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে হামলার পর স্থানীয় লোকজন ধাওয়া করে হামলাকারী যুবকসহ ১০ জনকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
বিষয়টি জানতে ২ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য (মেম্বার) ফজলুর রহমান সজীবের যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১০ জনকে আটক করেছে। তদন্তের স্বার্থে আটকদের নাম ও পরিচয় আপাতত জানানো যাচ্ছে না। এলাকার উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।
ছাগননাইয়া থানার ওসি সুদ্বীপ রায় পলাশ জানান, এ ঘটনায় নিহতের মা মরিয়ম ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেছেন। ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।