ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে দক্ষিণাঞ্চলের পাঁচ জেলার মানুষ। শনিবার (১ জুলাই) বরিশাল নগরীর নৌবন্দরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে সরেজমিনে দেখা য়ায়, ঢাকা-বরিশাল রুটে সাতটি বিলাসবহুল লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশ্য ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এরমধ্যে রয়েছে- পারাবাত-১২, সুরভী-৯, সুন্দরবন-১৬, মানামী, অ্যাডভেঞ্চার-৯, প্রিন্স আওলাদ-১০ এবং কুয়াকাটা-২। এসব লঞ্চগুলোতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
তবে পদ্মা সেতু চালুর পর নৌ-পথে যাত্রীদের চাপ অনেকটা কম। পদ্মা সেতু চালুর আগে ঈদের সময়ে যাত্রীদের চাপে ১৬ থেকে ১৭ টি লঞ্চ ঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেত। সেখানে শনিবার মাত্র ৭ টি লঞ্চ যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্য ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তাতেও আশানুরুপ যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে লঞ্চ মালিক সমিতি।
বরিশাল নৌবন্দর কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, 'ঈদের সময়ে যাত্রী হয়রানি, নৌপথ ও বন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোড়ালো রাখা হয়েছে।'
অন্যদিকে সন্ধ্যায় সরেজমিনে দেখা যায়, বরিশাল নগরীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদে রাজধানী ঢাকাগামী মানুষের উপস্থিতি ছিল মোটামুটি। টার্মিনালে একের পর এক বাস থাকলেও যাত্রীচাপ দেখা যায়নি। বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টার থেকে তারা টিকিট সংগ্রহ করছেন আবার কেউ টিকিট কেটে বাসের জন্য অপেক্ষায় আছেন।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পদ্মা সেতু চালুর আগে ঢাকা-বরিশাল রুটে দেড়শ’র মতো যাত্রীবাহী বাস চলাচল করতো, আর এখন ছয়শ’র মতো বাস চলাচল করে। এর মধ্যে ২০ থেকে ২৫ কোম্পানির বিলাসবহুল বাসও রয়েছে। তবে আজ যাত্রীদের চাপ না থাকলেও সারাদিনে প্রায় ২০০ মতো বাস ঢাকা উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। তবে আগামীকাল রবিবার যাত্রীদের চাপ বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন তারা।
রবিবার (২ জুলাই) যাত্রীচাপ বেশি হবে ঢাকাগামী বাসগুলোতে। আর পদ্মা সেতুর কারণে বর্তমানে সড়কপথে যাত্রী চাপ সামাল দেওয়ার মতো সক্ষমতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবহন মালিকরা।
এদিকে সোমবার (৩ জুলাই) পর্যন্ত তাদের কোনো বাসের সিট খালি নেই, অগ্রিম বুকিং হয়ে গিয়েছে। যদিও কিছু বাসে শনি ও সোমবারের কিছু টিকিট পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিলাসবহুল পরিবহন কাউন্টারের ম্যানেজাররা