নতুন পোশাক পরে ঈদের নামাজ আদায়, বিশেষ খাবার ও আনন্দ-বিনোদনের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের ছয় হাজারের অধিক কারাবন্দি। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নারীদের একটি ছাড়া বাকি তিনটি কারাগারে ঈদের জামাত হয়েছে। ঈদের দিন কারাগারগুলোতে সকালে খাওয়ানো হয় মুড়ি-পায়েস। দুপুরে দেওয়া হয় গরুর মাংস, খাসির মাংস, পোলাও, সালাদ, মিষ্টি, কোমল পানীয় ও পান-সুপারি। রাতে দেওয়া হয় ভাত, সঙ্গে রুই মাছ ও মুড়িঘণ্ট।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতি বছরের মতো এবারও কারাবন্দিদের কারাগারে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় দরিদ্র বন্দিদের চিহ্নিত করে নতুন পোশাক সরবরাহ করা হয়েছে। ঈদের দিন ও ঈদের পরদিন অনেকের স্বজনরা কারাগারে আসেন। ঈদে বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হলেও স্বজনরা তাদের রান্না করা খাবার দিয়ে গেছেন; এ কারণে ঈদের দিনও সাক্ষাতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বন্দিদের অংশগ্রহণে বিনোদনেরও আয়োজন করা হয়।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১-এর সিনিয়র জেল সুপার শাহজাহান আহমেদ বলেন, হাইসিকিউরিটিতে কোনো সাংস্কৃতিক আয়োজন না থাকলেও এই কারাগারে বন্দিদের জন্য সাংস্কৃতিক আয়োজন করা হয়। এতে বন্দিরাই বিভিন্ন বিষয়ে অংশগ্রহণ করেন। তিনি আরও জানান, এ কারাগারে ফাঁসি ও যাবজ্জীবন দ-প্রাপ্ত ১ হাজার ১৫৪ বন্দি আছেন। ঈদ উপলক্ষে শতাধিক দরিদ্র বন্দির মধ্যে লুঙ্গি বিতরণ করা হয়েছে। খাবার-দাবারে অন্যদের মতো একই আয়োজন ছিল।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর জেল সুপার আমিরুল ইসলাম জানান, বন্দিদের জন্য ঈদের নামাজের ৮টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ কারাগারেও শতাধিক দরিদ্র বন্দিকে লুঙ্গি দেওয়া হয়েছে। বিকেলে ছিল বন্দিদের জন্য সাংস্কৃতিক আয়োজন।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের জেল সুপার ওবায়দুর রহমান জানান, এ কারাগারে মহিলাদের জামাত অনুষ্ঠিত না হলেও নিজেরা নিজেদের মতো করে নামাজ আদায় করেছেন। কারাগারে (ডে-কেয়ার সেন্টারে) মা-বন্দিদের সঙ্গে আসা শিশুরাও রয়েছে। বন্দিদের অংশগ্রহণে ঈদ আনন্দ ও বিভিন্ন বিনোদনের আয়োজন করা হয়। এখানে ৫৪০ জন বন্দি রয়েছেন।
কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা জানান, এ কারাগারে ২ হাজার ৩৮৩ জন বন্দি আছেন। তাদের মধ্যে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত ও যাবজ্জীবন দ-প্রাপ্ত অনেক বন্দি রয়েছেন। ঈদের দিনে সব কারাগারে বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়।