আমাদের দেশে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে গরু এবং খাসি কোরবানি দেওয়া হয়। এ দুটোই লাল মাংসের অন্তর্ভুক্ত।
স্বাস্থ্যঝুঁকি : লাল মাংস গ্রহণের সঙ্গে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ এবং ক্যানসারের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এ ছাড়া কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, রক্তে ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যায়। এসব খাদ্যে উচ্চমাত্রার প্রোটিন থাকার কারণে যাদের লিভার এবং কিডনি সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য ও সমূহ ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।
রান্নার প্রক্রিয়া ও স্বাস্থ্যঝুঁকি : মাংস রান্না করার প্রক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। ঝলসানো গরুর মাংস যেমন কাবাব, বারবিকিউ এগুলো সরাসরি বাতাসের সংস্পর্শে এসে হেটারোসাইক্লিক এমাইনস নামক একটি যৌগ তৈরি করে। এটি কোলন, মলাশয়, স্তন, প্রোস্টেট, অগ্নাশয়, ফুসফুস, খাদ্যনালি, পাকস্থলীর ক্যানসার তৈরির পেছনে ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া লবণ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত মাংস, সসেস এগুলো ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
কাদের জন্য ক্ষতিকর : যারা উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, হাইকোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, কিডনি ফেইলর, উচ্চ ইউরিক অ্যাসিড, ফ্যাটি লিভার ইত্যাদি রোগে ভুগছেন তাদের অবশ্যই লাল মাংস গ্রহণ থেকে যতটা সম্ভব সংযত থাকতে হবে। যারা কিডনি ফেইলরে আক্রান্ত তাদের দিনে সর্বোচ্চ প্রোটিন গ্রহণের সীমা প্রতি কিলোগ্রাম ওজনের জন্য ক্ষেত্রবিশেষে আধা গ্রাম বা তারও কম। সুতরাং অন্যান্য খাদ্যের প্রোটিনের হিসাব বিবেচনায় নিলে তাদের ক্ষেত্রে আরও কম মাংস গ্রহণ করা দরকার।
গরু নাকি খাসির মাংস : গরুর মাংসে রয়েছে অত্যন্ত বেশি পরিমাণ সম্পৃক্ত চর্বি। আমাদের দেশের শীতের দিনে কক্ষ তাপমাত্রায় যেসব চর্বি জমে যায় সেগুলো হচ্ছে সম্পৃক্ত চর্বি। খাসির মাংসে গরুর মাংসের তুলনায় প্রোটিনের পরিমাণ বেশি, তবে চর্বি এবং কোলেস্টেরল তুলনামূলকভাবে কম। খাসির মাংসে গরুর মাংসের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণে আয়রন রয়েছে। যারা রক্তশূন্যতায় ভুগছেন তাদের জন্য এই উপাদানটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এ ছাড়া ভিটামিন বি-১২ লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে। এটিও রক্তশূন্যতায় কার্যকরী। এ কারণে গরুর মাংসের তুলনায় খাসির মাংস কোনো কোনো রোগে অবশ্যই এগিয়ে আছে।