‘জনসম্পৃক্ততার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে’

নিরাপত্তার নামে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন না করে, জনসম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার মাধ্যমে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

মঙ্গলবার (৪ জুলাই) প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট-পিজিআরের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে বাহিনীটির সদর দপ্তরে দরবার হলে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, পিজিআরের প্রতিটি সদস্যকে হতে হবে আরও চৌকস ও দক্ষ, যাতে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারে। একইসঙ্গে চেইন অব কমান্ডে পূর্ণ আস্থা রেখে অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট সদস্যদের নির্দেশ দেন রাষ্ট্রপতি।

স্বাধীনতা ও বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী এবং মুজিব শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে নিষ্ঠা, দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যম সফল করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখায় পিজিআর সদস্যদের ভূয়সী প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি। দায়িত্ব পালনে যেকোনো আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে বাহিনীকে চির স্মরণীয় করে রাখবে বলেও মন্তব্য করেন মো. সাহাবুদ্দিন।

ভিভিআইপিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি জনসংযোগের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

লিখিত ভাষণে তিনি বলেন, দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে এ ঐতিহ্যবাহী রেজিমেন্টের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। প্রতিষ্ঠার পর থেকে যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ত্যাগের বিনিময় প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট বর্তমান পর্যায়ে এসেছে, তাদের প্রতিও রইল আমার আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা।

প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তিনি বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের সব খাতের উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন তিনি। সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ও গুরুত্ব আরোপ করে মাত্র সাড়ে তিন বছরে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে স্বল্পোন্নত দেশে পরিণত করেন বঙ্গবন্ধু।

স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অক্ষুণ্ণ রা খতে বঙ্গবন্ধু দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন বাহিনীর উন্নয়ন ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার জন্য একটি বিশেষায়িত রেজিমেন্ট হিসেবে ১৯৭৫ সালের ৫ জুলাই প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট প্রতিষ্ঠা করেন বলেও জানান তিনি।