ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর একজন সিনিয়র সহযোগী জানিয়েছেন, ইসরায়েল তাদের জেনিন অপারেশন শেষ করার কাছাকাছি। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জাচি হানেবি কান রেডিওকে বলেন, অপারেশনটি "নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের কাছাকাছি।"
মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় আল জাজিরা।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের বাহিনীর হাতে নয়জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে যাদের সবাই যোদ্ধা ছিল।
তবে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসেবে, আহত একজন ফিলিস্তিনি রাতে মারা গেছে এবং সকালে আরেকজনের লাশ পাওয়া গেছে, যার ফলে মৃতের সংখ্যা ১০ এ পৌঁছেছে এবং প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ২০ জনের অবস্থা গুরুতর।
জেনিনের মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ বলে আল জাজিরাকে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মাই আল-কাইলা।
তিনি জানান, “জেনিনের পরিস্থিতি খুবই কঠিন। জেনিনে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের আগ্রাসন অনেক অবকাঠামো ধ্বংস করেছে। পানি এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বিশেষ করে শরণার্থী শিবিরের ভিতরে অনেক ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, "হাসপাতালে আহতদের ভিড় রয়েছে। এমনকি কিছু স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা হাসপাতালে পৌঁছতে পারছেন না যেখানে তাদের কাজ করা উচিত।"
এদিকে জেনিনে ইসরায়েলের হামলার মাত্রা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। প্রাথমিক চিকিৎসাদানকারী কর্মীদের গুরুতর আহত ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলেও জানায় সংস্থাটি।
জাতিসংঘের মানবিক দপ্তরের মুখপাত্র ভ্যানেসা হুগেনিন এক ব্রিফিংয়ে বলেন, "অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিনে যে পরিমাণ বিমান ও স্থল অভিযান চলছে এবং একটি ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী শিবিরে বিমান হামলা হচ্ছে তাতে আমরা শঙ্কিত।“ নিহতদের মধ্যে তিন শিশুও রয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে ইসরায়েলের এই অভিযানের নিন্দা জানিয়েছে তুরস্কও।
এক বিবৃতিতে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, "আমরা ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষকে সাধারণ জ্ঞানের সাথে কাজ করার এবং এই ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।"
এদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে বড় এই অভিযানকে সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ডানপন্থী ইসরায়েলি সরকারের ক্রমবর্ধমান সহিংসতাকে উৎসাহিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের এই সমর্থন বলছেন বিশ্লেষকরা।
সোমবার এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানায়, "আমরা হামাস, ফিলিস্তিনের ইসলামিক জিহাদ এবং অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের নিরাপত্তা এবং তার জনগণকে রক্ষা করার অধিকারকে সমর্থন করি।"
আল জাজিরা জানায়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জেনিন সরকারি হাসপাতালের প্রবেশপথে কয়েক ডজন টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেছে যেখানে চিকিৎসক, জেনিন শরণার্থী শিবির থেকে পালিয়ে আসা পরিবার এবং সাংবাদিকরা অবস্থান করছিলো।