ভারতে ১৯৬১ সাল থেকে যৌতুক নিষিদ্ধ। কিন্তু এখনও কনের পরিবারের কাছ থেকে যৌতুক আশা করে বরের পরিবার। নিষ্ঠুর এই সামাজিক প্রথার বিরুদ্ধে লড়াই করছেন ভোপালের ২৭ বছর বয়সী এক শিক্ষিকা। যৌতুক ঠেকাতে বিয়ের অনুষ্ঠানে পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতির দাবি জানিয়ে এক পিটিশন শুরু করেছেন তিনি।
গুঞ্জন তিওয়ারি (ছদ্মনাম) বলেছেন, যৌতুক দিতে রাজি না হওয়ায় বহু পুরুষ তাকে বিয়ে করতে রাজি হয়নি। তার বিয়ের সম্বন্ধ ভেঙে যাওয়ার সবশেষ ঘটনাটি ঘটেছে এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে।
তিনি বলেন, তারা ৫০ থেকে ৬০ লাখ রুপি চেয়েছিল। যখন আমার বাবা উনার কাছে এ বিষয়ে জানতে চান, তিনি উত্তর দিয়েছিলেন- আপনার মেয়ে যদি সুন্দরী হয়, আমরা আপনাকে ডিসকাউন্ট দেব।
গুঞ্জন জানান, তার বাবা গত ছয় বছরে বিয়ের উপযুক্ত ছেলে আছে এরকম ১০০ থেকে ১৫০টি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাদের মধ্যে দুই ডজন পরিবারের সঙ্গে তাদের দেখা-সাক্ষাৎ হয়েছে। গুঞ্জন বলেন, তাদের প্রায় সবাই যৌতুক দাবি করেছে এবং এ কারণে বিয়ের আলোচনা আর অগ্রসর হয়নি।
গুঞ্জন গণিতে মাস্টার্স করেছেন এবং অনলাইনে টিউশনি করেন। তিনি বলেন, এরকম প্রত্যাখ্যানের কারণে আমি আমার আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলি।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে ভারতে যত বিয়ে হয় তার ৯০% ক্ষেত্রেই যৌতুক দেওয়া-নেওয়া হয়। ধারণা করা হয় ১৯৫০ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত যতো যৌতুক দেওয়া-নেওয়া হয়েছে তার পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলারের চার ভাগের এক ভাগ।
যৌতুকের দাবি মেটাতে গিয়ে কন্যার বাবা মায়েরা সাধারণত বড় অংকের ঋণ নিয়ে থাকেন অথবা তাদের বাড়ি ও জমি বিক্রি করে দেন। কিন্তু এই যৌতুকও স্বামীর পরিবারে তাদের কন্যার সুখী জীবন সবসময় নিশ্চিত করতে পারে না।
অপরাধ সংক্রান্ত জাতীয় রেকর্ড ব্যুরোর তথ্য অনুসারে পর্যাপ্ত পরিমাণে যৌতুক না দেওয়ায় ভারতে ২০১৭ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ৩৫ হাজার ৪৯৩ জন স্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছে। এই হিসেবে শুধুমাত্র যৌতুকের কারণে গড়ে প্রতিদিন ২০ জন নারী হত্যার শিকার হয়েছে।
ভোপালের পুলিশ প্রধান হরিনারায়নান চারি মিশ্রকে দেওয়া পিটিশনে গুঞ্জন বলেছেন, এই সমস্যার একমাত্র সমাধান হলো যেখানে বিয়ের অনুষ্ঠান হয় সেখানে পুলিশের উপস্থিতি থাকতে হবে। শাস্তি পাওয়ার ভয় এই নিষ্ঠুর প্রথা বন্ধে সাহায্য করবে।
নারীর অধিকার নিয়ে কাজ করেন এরকম একজন কর্মী কভিতা শ্রীভাস্তভা বলেছেন, পুলিশ অবশ্যই সাহায্য করতে পারে। তবে যৌতুক মোকাবিলা করা একটি জটিল বিষয়। ভারত তো পুলিশি রাষ্ট্র নয়, তবে দেশে যৌতুক নিষিদ্ধের একটি আইন আছে এবং আইনটিকে আরো যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে হবে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা