ব্যক্তি মালিকানার পুকুরের ঘাট দেখিয়ে সরকারি বরাদ্দ আত্মসাত!

ব্যক্তি মালিকানার পুকুরের ঘাট দেখিয়ে ইউপি সদস্য ও তার ছেলের বিরুদ্ধে সরকারী অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে।

কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলার অন্তর্ভুক্ত ঝলম ইউনিয়নের বেওলাইন গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। জড়িত থাকা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের নাম রাধা রানী। তিনি সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য। তার ছেলে যুবলীগ নেতা কৃষাণ তালুকদারের সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও রয়েছে।

জানা যায় পূর্বের ব্যক্তি মালিকানা অর্থে নির্মিত পুকুরের ঘাট দেখিয়ে উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন তহবিল (রাজস্ব উদ্ধৃত) এর আওতায় পিআইসি বরাদ্দের ২লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন রাধা রানী নামের ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য ও তার ছেলে যুবলীগ নেতা কৃষাণ তালুকদার।

এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর গত মঙ্গলবার (৪ জুলাই) বেওলাইন গ্রামের নাজমুল হুদা ইকবাল বরুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা আফরিন মুস্তফা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তা গ্রহণ করেননি বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে বরুড়া বেওলাইনে গিয়ে দেখা যায়, ওই গ্রামে সরকারি অনুদানে কোন পুকুরের ঘাট নেই, যেগুলো রয়েছে সব ব্যক্তি মালিকানার।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মোস্তফা বলেন, বেওলাইনে সরকারি কোন পুকুরের ঘাটলা নেই। বেওলাইন দেবনাথ ডাক্তার বাড়ি দিঘিতে কয়েকটি ঘাটলা আছে যা সবই ব্যক্তি মালিকানার।

উপজেলা সূত্রে জানা যায় চলতি বছরের মার্চ মাসের ৯ তারিখ উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় বেওলাইন গ্রামে একটি ঘাটলা নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয় যা সেই সভাতেই উন্নয়ন তহবিল (রাজস্ব উদ্ধৃত) এর আওতায় ২০২২-২৩ অর্থ বছরের পিআইসি বরাদ্দ থেকে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়ার অনুমোদন করা হয়।

অনুমোদিত বরাদ্দে সভাপতি করা হয় ঝলম ইউনিয়নের ৭, ৮ এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য রাধা রাণী তালুকদারকে।

চলতি বছরের জুনে সেই বরাদ্দের কাজ শেষ করা হয়েছে মর্মে কাগজপত্র জমা দিয়ে বরাদ্দের ২লাখ টাকা তুলে নেন রাধা রাণী তালুকদার ও তার ছেলে কৃষাণ তালুকদার।

কাজ সম্পন্ন করে বিল উত্তোলন চাওয়া বিলটি মূলত তিন থেকে চার বছর আগে ব্যক্তি মালিকানা অর্থে নির্মাণ করা হয়েছিল। যেটি ২০১৭ সালে রাজমিস্ত্রী জহির হোসেন দৈনিক হাজিরা ভিত্তিতে নির্মাণ করেন।

ঘাটের বিল নিয়ে অভিযুক্ত রাধা রানী তালুকদারকে ফোন করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে তার ছেলে কৃষাণ তালুকদার গণমাধ্যমকে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পারিবারিক এবং রাজনৈতিক বিরোধের জেরে এমন অভিযোগ তোলা হয়েছে। টেন্ডার হওয়ার আগে ঘাটলা নির্মাণ করা হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থ বছরেই ঘাটলাটি নির্মাণ করা হয়েছে। টেন্ডার হওয়ার পর আমরা কাগজপত্র সাবমিট করে বিল উত্তোলন করেছি। টেন্ডার হওয়ার আগে ঘাটলাটি নির্মাণ করা হলেও তার মাপ ঝোঁক, নির্মাণ সামগ্রীর সঠিক ব্যবহারই করা হয়েছে।

পুকুর ঘাটলা নির্মাণ নিয়ে উপজেলা প্রজেক্টের সভাপতি ও উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কামরুন্নাহার শিখা মুঠো ফোনে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে বরুড়া উপজেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এমন কোনো ঘটনা ঘটলে প্রকল্পের অর্থ ফেরত নেওয়া হবে। আমরা বিষয়টি দেখবো, এমন কোনো ঘটনা আছে কি না।

বরুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ( ইউএনও) সাবরিনা মোস্তফা মুঠো ফোনে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনি এই বিষয়ে অফিসে এসে কথা বলেন, এই বলে মুঠো ফোনের লাইন কেটে দেন।

বরুড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এএনএম মঈনুল ইসলামকেও মুঠো ফোনে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, আমি এসব বিষয়ে খুব পজিটিভ। উপজেলা পরিষদের এমন কোনো বরাদ্দ ছিল কি না কিংবা বরাদ্দ হয়ে থাকলেও কী ঘটেছিল তা উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে আসলে বিষয়টি নিয়ে অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবো।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম বলেন, উপজেলা পরিষদের বরাদ্দে অনিয়ম হলে লিখিত অভিযোগটা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর দিলেই ভালো হয়। ইউএনও অভিযোগ রাখতে পারবেন না বিষয়টি এমন নয়। তবে উপজেলা পরিষদে দিলেই সবচেয়ে ভালো হয়।