সরকারি, বেসরকারি ও ক্যাডেট কলেজের শিক্ষার্থীদের বার্ষিক মাথাপিছু ব্যয়ের ব্যবধান ক্রমান্বয়ে কমছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য মোজাফফর হোসেনের প্রশ্নের লিখিত জবাবে মন্ত্রী আরও জানান, বাজেট ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা ও গতিশীলতা আনয়ন এবং শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় সুশাসন, সাম্য ও জবাবদিহি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে সরকারি, বেসরকারি ও ক্যাডেট কলেজের শিক্ষার্থীদের বার্ষিক মাথাপিছু ব্যয়ের ব্যবধান ক্রমান্বয়ে কমছে।
একই প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, গত অর্থবছরে (কোন অর্থবছর সেটা উল্লেখ করা হয়নি) ক্যাডেট কলেজগুলোর সরকারি বরাদ্দ ছিল ১৯৭ কোটি ৫৯ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। বর্তমানে ক্যাডেট কলেজগুলোতে ৩ হাজার ৭০০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। সেই অনুযায়ী ক্যাডেট কলেজগুলোতে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীদের মাথাপিছু বার্ষিক সরকারি ব্যয়ের পরিমাণ ৫ লাখ ৩৪ হাজার ৪৩ টাকা। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাব্যয়-সংক্রান্ত বরাদ্দ সমন্বিতভাবে সম্পন্ন করা হয় বিধায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাব্যয় পৃথকভাবে প্রদর্শন করা হয় না বলেও তিনি জানান।
মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, উচ্চমাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থীপ্রতি সরকারের বার্ষিক খরচ ৫০ হাজার ৫১২ টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে এ স্তরের ৩৩ লাখ ১৪ হাজার ৪৩৬ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে বরাদ্দ ছিল ১৬ হাজার ১৬৭ কোটি টাকা। পোস্ট সেকেন্ডারি নন-টারশিয়ারি স্তরে ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৫৮ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে সরকারের বরাদ্দ ছিল ৭০৭ কোটি টাকা। শিক্ষার্থীপ্রতি বার্ষিক খরচ ২০ হাজার ৪৮৯ টাকা। টারশিয়ারি স্তরে ৩৮ লাখ ১২ হাজার ৪১৪ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে বরাদ্দ ছিল ৭ হাজার ৮০৭ কোটি টাকা। এ হিসাবে সরকারের বার্ষিক খরচ ২০ হাজার ৪৭৮ টাকা।
সরকারি দলের সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবির আরেক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, দেশের প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিটি বিভাগে একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার। সাতক্ষীরা জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।
দেশে ৬৭০৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জরাজীর্ণ : এদিকে সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. শাহে আলমের প্রশ্নের উত্তরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন জানান, দেশে বর্তমানে ৬ হাজার ৭০৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জরাজীর্ণ ভবন রয়েছে। লিখিত উত্তরে তিনি জানান, ২০২৫ সালের মধ্যে জরাজীর্ণ ও আধাপাকা ভবনগুলোর পরিবর্তে নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। ইতিমধ্যে যেসব বিদ্যালয় জরাজীর্ণ ভবনের স্থলে নতুন ভবন বা অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের জন্য তালিকা অনুমোদিত হয়েছে, সেসব বিদ্যালয়ে নতুন ভবন অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ কার্যক্রম চলমান।