লক্ষ্মীপুর সদরে বিশেষভাবে সক্ষম একজনকে ধরে এনে থানায় নির্যাতন ও টাকা দাবির অভিযোগে পুলিশের তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
তারা হলেন লক্ষ্মীপুর সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোসলেহ উদ্দিন, শহর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক (ইনচার্জ) জহিরুল আলম ও উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জুয়েল। লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপারকে এ মামলা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার সকালে পুলিশ সুপার মাহফুজ্জামান আশরাফ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি (এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত) আদালত থেকে নির্দেশনার কোনো কাগজপত্র পাননি বলেও জানিয়েছেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী (পেশকার) জসিম উদ্দিন জানান, এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি অঞ্চল সদর আদালতের বিচারক তারেক আজিজ এ নির্দেশ দেন।
তিনি আরও বলেন, নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনের ৫(২) ধারা এবং একই আইনের ৮(১) ধারা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্তকাজ সম্পন্ন করতে লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আদেশ প্রাপ্তির দুই কার্যদিবসের মধ্যে মামলার নম্বরসহ অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই আদেশের কপি পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজিকেও অনুলিপি দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
বাদীর আইনজীবী মোসাদ্দেক হোসেন বাবর বলেন, বাদী দেলোয়ারা বেগমের ছেলে আরিফ হোসেন বিশেষভাবে সক্ষম (প্রতিবন্ধী)। তার ছেলেকে ধরে নিয়ে অভিযুক্তরা অমানবিক নির্যাতন করেছেন। আরিফকে ফেরত নিতে গেলে ৭০ হাজার টাকা দিতে হবে বলে দাবি করেন অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ৩ জুলাই বিকেল ৪টার দিকে বিশেষভাবে সক্ষম আরিফ হোসেনকে অমানবিক নির্যাতন করেন অভিযুক্তরা। তারা আইনের তোয়াক্কা না করে আরিফকে আটকে রাখেন। পরদিন বাদী ছেলেকে থানায় দেখতে গেলে তার সামনেই অভিযুক্ত এসআই জুয়েল তাকে অমানবিক নির্যাতন করেন।
এ বিষয়ে সদর মডেল থানার ওসি মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ‘মামলার বিষয়টি শুনেছি। বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবিলা করা হবে।’