লালমনিরহাটের দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকার ভারতীয় অংশে রফিকুল ইসলাম (২৪) নামে এক বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যার পর মরদেহ ভেলায় তুলে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ধারণা করা হচ্ছে, ভারতে পঞ্চায়েত নির্বাচন কেন্দ্র করে উত্তেজনা নিয়ে গোলাগুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে আদিতমারী থানার দুর্গাপুর ইউনিয়নের মোগলহাট সীমান্ত লাগোয়া জারী ধরলা নদীতে রফিকুলের মরদেহ ভাসতে দেখে এলাকাবাসী। পরে খবর পেয়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত রফিকুল ইসলাম ওরফে টেরে দুর্গাপুর ইউনিয়নের পূর্ব দীঘলটারি এলাকার চওড়াটারি এলাকার হায়দার আলীর ছেলে।
চওড়াটারি গ্রামের একাধিক বাসিন্দা দেশ রূপান্তরকে বলেন, পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে সীমান্তের ভারতীয় অংশে বেশ কিছুদিন ধরে উত্তেজনা চলছে। কয়েকজন সহযোগী নিয়ে নির্বাচন উপলক্ষে ভারতীয় অংশে গেলে ভারতীয় দুর্বৃত্তরা রফিকুলকে গুলি করে হত্যা করে। পরে মরদেহ কলাগাছের ভেলায় ভাসিয়ে দেয় বাংলাদেশের দিকে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘দুর্গাপুর সীমান্তের ওপারে রফিকুলকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তবে কে বা কারা মেরেছে, তা এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।’
আদিতমারী থানার ওসি মোজাম্মেল হক জানান, নিহত রফিকুলের মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
লালমনিরহাট সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বে থাকা লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোফাজ্জল হোসেন আকন্দ বলেন, ‘ঘটনা জানার পরপরই ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা সীমান্তে কোনো গুলি চালায়নি বলে জানিয়েছে। এটি কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাজ হতে পারে। বিএসএফ বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে বলে জানিয়েছে।’