জমি দখলে হামলা

কুতুবদিয়ায় হিন্দু পরিবারের নারী সদস্যসহ আহত ৮

কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় জমি দখলে নিতে হিন্দু ধর্মাবলম্বী পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার প্রভাবশালী একটি পরিবারের বিরুদ্ধে। গত বুধবার এ দ্বীপ উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ছৈয়দপাড়া গ্রামে হামলার ওই ঘটনা ঘটে। এতে ওই পরিবারটির আট নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন। তাদের কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে হামলার ঘটনায় হিন্দু ধর্মাবলম্বী পরিবারটির আহত একজন বাদী হয়ে কুতুবদিয়া থানায় লিখিত এজাহার জমা দিলেও সেটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করতে গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়নি বলে

জানা গেছে।

কুতুবদিয়া থানায় জমা দেওয়া এজাহারে বলা হয়েছে, গত ৫ জুলাই সকাল ১০টার দিকে উপজেলা সদরের বড়ঘোপ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ছৈয়দপাড়া গ্রামে শিবু দাশের পরিবারের সদস্যরা তাদের জমিতে চাষাবাদের কাজ করছিলেন। এ সময় ওই জমি নিজেদের দাবি করে লাঠিসোঁটা নিয়ে শিবু দাশের পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায় একই এলাকার মিয়ারপাড়া গ্রামের রুহুল কাদের বাদশার নেতৃত্বে একদল লোক। হামলাকারীদের এলোপাতাড়ি মারধরে পরিবারটির আট নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন। আহতরা হলেনÑ নকুল দাশের দুই ছেলে কাশ কুমার ওরফে চাঁদ কুমার দাশ ও লেডু ওরফে জয়সন দাশ, চাঁদ কুমারের স্ত্রী অঞ্জলি রানী দাশ, পুত্র শিবু দাশ, কন্যা সুমী দাশ, সুমী দাশের স্বামী সুমন দাশ, জয়সন দাশের স্ত্রী কাজলী দাশ ও লাল মোহন দাশের পুত্র সুশীল দাশ। হামলার পরপরই আহতদের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে তাদের উদ্ধার করে কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। ঘটনার পর শিবু দাশ বাদী হয়ে হামলাকারী বড়ঘোপ মিয়ারপাড়ার বাসিন্দা আবদুস সালাম, রুহুল কাদের বাদশা, মো. খোকন, সালাউদ্দিন কাদের জুয়েল, মাহমুজ, হাসান শরীফ , মঈন উদ্দিন কাদের সোহেল ও পারভীন আক্তারের বিরুদ্ধে কুতুবদিয়া থানায় এজাহার জমা দেন।

শিবু দাশ বলেন, ‘আমরা গরিব অসহায় ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোক হওয়ায় আমাদের ওপর রুহুল কাদের বাদশা গং বেপরোয়াভাবে হামলা চালিয়েছে। আমি এ হামলার বিচার চাই। কিন্তু কুতুবদিয়া থানা পুলিশ এখনো আমার এজাহারটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করেনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার পিতার নামে বড়ঘোপ মৌজায় কিছু জমি ছিল। আমার পিতা দানপত্র দলিলমূলে আমার মাতা অঞ্জলী রানী দাশকে সেই জমি দান করে দেন। সেই জায়গা রুহুল কাদের বাদশা গং জবরদখল করতে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কুতুবদিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কানন সরকার বলেন, ‘আহতদের পরিবার গতকাল (৬ জুলাই) থানায় এজাহার জমা দিয়েছে। পুলিশ এখন সেটি তদন্ত করে দেখছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশ মামলা নিচ্ছে নাÑ এ কথাটি সঠিক নয়।’