টঙ্গীতে শ্রমিক নেতা শহীদুল হত্যা মামলা শিল্প পুলিশে

গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে শ্রমিক নেতা শহীদুল ইসলাম হত্যা মামলার তদন্ত টঙ্গী পশ্চিম থানা থেকে শিল্প পুলিশে ন্যস্ত করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পেয়েই শিল্প পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন। গতকাল শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থলের সিসিটিভির ফুটেজও সংগ্রহ করেছেন শিল্প পুলিশের কর্মকর্তারা। টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি মো. শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলাটির বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর পরিদর্শক মো. ওসমান আলী জানান, চিকিৎসকরা শহীদুলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের জন্য ভিসেরার নমুনা ঢাকায় ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পাঠিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, শিল্প পুলিশ সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মামলাটি তদন্ত করছে। ইতিমধ্যে মামলার একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। 

উল্লেখ্য, গত ২৫ জুন টঙ্গীর সাতাইশ এলাকায় প্রিন্স জ্যাকার্ড সোয়েটার লিমিটেড নামক কারখানায় বকেয়া বেতন আদায়ের দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলন চলছিল। এ ঘটনায় শ্রমিকদের পক্ষে কথা বলতে গেলে মালিকপক্ষের ভাড়াটে লোক দিয়ে শ্রমিক নেতা শহীদুলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি কল্পনা আক্তার। এ ঘটনায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কল্পনা আক্তার বাদী হয়ে গত ২৬ জুন টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের টঙ্গী পশ্চিম থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুলসহ ৬ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের পাঁচজনই পোশাক শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের নেতা। নিহত শহীদুল বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের গাজীপুর জেলা কমিটির সভাপতি এবং শ্রীপুরের রাজাবাড়ি ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।