সালাউদ্দিনের সুপারস্টার রাকিব

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অপ্রত্যাশিত ভালো খেলেছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। টুর্নামেন্ট শুরুর দিন কতেক আগেও কম্বোডিয়ায় অগোছালো-পরিকল্পনাহীন ফুটবল খেলতে দেখা যায় দলকে। সেই দলটাই ভারতের হাওয়া-বাতাস লাগিয়ে একেবারে বদলে যায়। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শুরুর ম্যাচ থেকেই এই দলটাকে ঠিক চেনা যাচ্ছিল না। উত্তুঙ্গু আত্মবিশ্বাস নিয়ে শুরুর পর তারা লেবাননের কাছে হার মানে ঠিক, তবে সামর্থ্যের একটা ইঙ্গিত দিয়ে রাখে। সেই হারের পর মালদ্বীপের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প ছিল না। বদলে যাওয়া বাংলাদেশ শুরুতে পিছিয়ে গিয়েও ৩-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে। একই গল্প ভুটানের বিপক্ষে একইভাবে লিখে তারা ১৪ বছর পর পা রাখে সাফের সেমিফাইনালে।

আর এই বদলে দেওয়ার কৃতিত্ব অনেকটাই পাবেন রাইট উইঙ্গার রাকিব হোসেন। মালদ্বীপ ও ভুটানের বিপক্ষে অসাধারণ ফুটবলে জয়ে রেখেছেন বড় অবদান। দুই ম্যাচেই গোল করেছেন বসুন্ধরা কিংসের এই ফরোয়ার্ড। এমন পারফরম্যান্সের পর থেকেই আলোচনায় শীর্ষে চলে আসেন রাকিব। আর আজ পেলেন ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় কমপ্লিমেন্ট। দেশের সর্বকালের তর্কাতীত সেরা ফুটবলার কাজী সালাউদ্দিন রাকিবকে সুপারস্টার খেতাব দিয়ে দিলেন।

আজ বাফুফে ভবনে সাফ খেলে আসা ফুটবলারদের ডেকে প্রতিশ্রুত ৫‌‌১ লাখ টাকা অর্থ পুরস্কার তুলে দেন চারবারের সভাপতি সালাউদ্দিন। চেক হস্তান্তরের পর নিজের দীর্ঘ বক্তৃতায় সালাউদ্দিন ভূয়সী প্রশংসা করেন ফুটবলারদের। রীতিমতো নাম ধরে ধরে তিনি সবার পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন।

সালাউদ্দিন বলেন, 'জিকো টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষক হয়েছে। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের। কিছু নতুন খেলোয়াড়রা দারুণ পারফরম্যান্স করেছেন। লেফটব্যাকে ইসা (ফয়সাল) ছিলেন অসাধারণ। সেন্ট্রাল ডিফেন্সে তপু এবং তারিক কাজী দারুণ পারফরম্যান্স করেছেন। চোট পাওয়া সত্ত্বেও দারুণ খেলেছেন তারিক। মিসফিল্ডে দুই সোহেল রানা তাদের কাজ দারুণ ভাবে করেছেন। তিন তরুণ ফুটবলার ফাহিম, মোরসালিন এবং হৃদয় এরা ফুটবলের ভবিষ্যৎ। তাদের পারফরম্যান্সে আমি দারুণ সন্তুষ্ট। এ ছাড়া আমরা একজন সুপারষ্টার পেয়েছি, রাকিব।'

সালাউদ্দিনের বিশ্বাস নিজেকে ধরে রাখতে পারলে রাকিব একদিন সর্বকালের সেরা ফরোয়ার্ড হবেন, 'বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা একজন ফরোয়ার্ড তিনি। যদি সে আরও কঠোর পরিশ্রম করতে পারেন তবে সে আরও ভালো হতে পারবেন। দেশের সর্বকালের সেরা ফরোয়ার্ড হওয়ার সক্ষমতা তার আছে।'