টাইগারদের হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর চ্যালেঞ্জ

সময় ভালো না গেলে মন কাঁদে। স্বাভাবিক জীবনও যায় আটকে। চট্টগ্রামের আকাশ কাল চলতি সিরিজে বাংলাদেশের রূপ নিল। একদম ভোর থেকেই কাঁদল অঝোরে। তাতে আটকে গেল সকাল ১০টা থেকে শুরুর কথা থাকা বাংলাদেশের নিয়মিত অনুশীলন। নিয়ম বদলে যে দিনের পরের অংশে অনুশীলন হবে সেই সুযোগও নেই। দুপুর ২টা থেকে অনুশীলন সূচি আফগানিস্তানের।

সিরিজের শেষ ম্যাচের আগে তাই আফগানরা পূর্ণ অনুশীলন করলেও বাংলাদেশ দলকে হোটেলে বসেই কাটাতে হয়েছে। টানা দুই দিন অনুশীলন ছাড়া সিরিজের শেষ ম্যাচে নামতে হচ্ছে লিটন দাসদের। সময়টা ভালো যাচ্ছে না বলে চারপাশটাও কেমন আটকে গেল। প্রকৃতিও সঙ্গ দিল না। তাই হয়নি ভুল সংশোধনের কাটাছেঁড়া। মনোবল ফেরানো জয়ের খোঁজে থাকা ম্যাচে তাই একদম অনুশীলন ছাড়াই নামছে বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় দফা দায়িত্ব নেওয়ার পর এমন কঠিন সময় এই প্রথম পার করতে হচ্ছে কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহেকে। গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নিয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভালো সিরিজ কাটিয়েছেন। ওয়ানডেতে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারের পর টি-টোয়েন্টিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ৩-০ তে হোয়াইটওয়াশ করা। চারদিকে হাথুরুর সাফল্যের রব আরও বাড়ে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টানা দুই সিরিজে স্পষ্ট দাপটে। এই সময়ে বিশ্বকাপ কাছে চলে আসায় বাংলাদেশ দলকে বেশ ভারসাম্যপূর্ণই বলা হচ্ছিল। তাই আফগানদের বিপক্ষে নিজেদের শেষ মুহূর্তের দেখে নেওয়ার চেষ্টা ছিল বাংলাদেশের।

ঠিক তখনই বড় ধাক্কা চারদিক থেকে। অধিনায়ক তামিম ইকবালের অবসর নেওয়া এবং ফিরে আসা, আফগান স্পিনারদের সামনে দলের ব্যাটারদের অসহায়ত্ব এবং সেরা সময় পার করা বোলারদেরও খেই হারানো। সবমিলিয়ে চূড়ান্ত সময়ে নিজেদের তাল হারিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ। মনোবল ফিরে পাওয়ার প্রবল চেষ্টায় শেষ ম্যাচটাই ভরসা। দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা সহকারী কোচ নিক পোথাস জানালেন দল পূর্ণ বিশ্বাস রাখছে সিরিজটা ভালোভাবে শেষ করার।

খুব ভালো ছাত্র ভুল করলে তার দিকে আঙুল ওঠে বেশি। বাংলাদেশ দলের এতদিনের চলে আসা লেটার মার্কে হঠাৎ ফেলে তাই সমালোচিত হচ্ছে বেশি। পোথাস ধৈর্য রাখতে বললেন সবাইকে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশ দল পিছিয়ে থাকলেও টেনে তোলার কিছু নেই, ‘নাহ, আমি দলে কোনো সমস্যা দেখি না। সব ঠিক আছে। আর আমরা যাদের নিয়ে কথা বলছি তারা নিজেদের কাজের ব্যাপারে চরম পেশাদার। দলের বাইরে থেকে যেমন কোচ বা টিম ম্যানেজমেন্টদের কারোরই ওদের টেনে তোলার, মনোবল বাড়ানোর আলাদা চেষ্টা করার কিছু নেই। অসাধারণ ক্রিকেট গ্রুপটা অবশ্যই ভালো সময়ে ফিরবে।’

বড় দুটি টুর্নামেন্টের আড়ে এই সিরিজটা দুই দলের জন্যই বিপক্ষের শক্তি-দুর্বলতা দেখানোর শেষ সুযোগ ছিল। দুই ম্যাচ শেষে ব্যাপারটা শুধু আফগানদের শক্তি ও বাংলাদেশের দুর্বলতায় এসে ঠেকেছে। পোথাস এতটা হতাশ হচ্ছেন না। বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন নিকট অতীতের সাফল্য, ‘আমরা সত্যিই খুব দ্রুত ভুলে যাই যে দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছি। আমরা বিশ্বমানের ক্রিকেটারদের মাত্র দুটি ম্যাচে মাপছি। এমনটা না করে আমাদের উচিত এই ক্রিকেটারদের লম্বা সময়ের ফলের ভিত্তিতে মাপা।’

পোথাস মাপতে না চাইলেও চট্টগ্রামের উইকেটে ব্যাটারদের হতাশাজনক পারফরম তাদের মাপতে বাধ্য করছে। যেখানে অপর দলের দুই ওপেনার এক ম্যাচে দুটি সেঞ্চুরি হাঁকান। সহকারী কোচ সহজ স্বীকারোক্তি দিলেন বিশ্বমানের স্পিনারদের বিপক্ষে ব্যাটাররা খাবি খাচ্ছে। তাই বলে ব্যাটিং লাইনে বদল আসবে কি না এ ব্যাপারে ম্যাচের আগে কিছু বলতে চাননি।

এ নিয়ে আলোচনা যে হয়নি তা বলা যাবে না। আগেরদিন দলের অনুশীলন না থাকলেও স্টেডিয়ামে এসে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু ও আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে লম্বা সময় আলাপ করেছেন হাথুরু। সেখানে বড় চিন্তার কারণ আফিফ হোসেন। সাত নম্বর ব্যাটার ধরে তাকে দলে নেওয়া হয়। এই জায়গায় আর কোনো স্পেশালাইজড ব্যাটারও নেই এ সিরিজে। তার মানে আফিফকেই তিন ম্যাচ খেলার ইচ্ছে ছিল টিম ম্যানেজমেন্টের। কিন্তু দুই ম্যাচ পর একটিতে ৪ ও দ্বিতীয়তে ০ করে দুবারই রশিদ খানের বলে পরাস্ত হওয়া ব্যাটারকে নিয়ে বিরক্তি দেখাতেই পারেন হাথুরু।

এখন শেষ ম্যাচে তাকে সুযোগ দিতে না চাইলে একজন ব্যাটার ওপরে খেলাতে হবে। আর ব্যাটার না নিলে ৫ বোলারের বেশি খেলাতে হবে এবং মিরাজ উঠবেন সাত নম্বরে। কিন্তু কোনো দলই ৬ বোলার নিয়ে খেলে না। এমনিতেই এবাদতের ইনজুরির জন্য তাসকিন বা শরিফুলকে নামতে হবে এই ম্যাচে। বাংলাদেশ আফিফকে বাদ দিয়ে ৬ বোলার খেলাবে সাকিবসহ! অসম্ভব এই সমীকরণ না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তাই হয়তো আফিফকে বিশ্রাম দিয়ে রনি তালুকদারকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে আর না হলে আফিফ আরও একটি সুযোগ পেয়ে যাবেন।

স্বস্তির সময় পার করা হাসমতুল্লাহ শহিদিদের অবশ্য দল নিয়ে এত দুশ্চিন্তার কিছু নেই। চাইলে কোনো পরিবর্তন ছাড়া সেরা একাদশটাই খেলাতে পারেন আজ। আবার বেঞ্চের ক্রিকেটারদেরও সুযোগ দিতে পারেন। তবে কাল সংবাদ সম্মেলনে আসা বোলিং কোচ হামিদ হাসান যেমন হোয়াইটওয়াশের আশা রাখলেন তাতে আফগানিস্তানের সেরা একাদশই মাঠে নামবে বলে বোঝা যায়।

এটা বাংলাদেশের জন্য দুঃসংবাদ। কঠিন সময় উতরে ভালো কিছু পেতে চাইলে সেরা তিন স্পিনার ও ফজল হক ফারুকিকে নিয়ে গড়া বোলিং অ্যাটাকের চ্যালেঞ্জ জিততে হবে। নিজেদের ফিরে পেতে চাইলে শক্ত প্রতিরোধে এগিয়ে আসা ছাড়া উপায় নেই দেয়ালে পিঠ ঠেকা লিটনদের। যতই হোক এশিয়া কাপের আগে এটাই তো মনোবল ফিরে পাওয়ার শেষ সুযোগ আজ।