মেয়াদোত্তীর্ণ ভ্যাকসিন পুশ

সাত ঘন্টা পর জ্ঞান ফিরল শিশুর

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে আমিনা খাতুন নামের তিন বছরের এক শিশুকে ডিপথেরিয়া ও টিটেনাসের মেয়াদোত্তীর্ণ ভ্যাকসিন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পল্লি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এতে শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে এবং ৭ ঘন্টা পর জ্ঞান ফিরেছে তার।

কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের নুরনগর গ্রামে গত সোমবার (১০ জুলাই) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী শিশু আমিনা নুরনগর গ্রামের ভ্যান চালক জাহিদুল ইসলামের মেয়ে।

অপরদিকে মেয়াদোত্তীর্ণ ভ্যাকসিন প্রয়োগকারী অভিযুক্ত পল্লি চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম রফিক একই উপজেলার মুগবেলাই গ্রামের বাসিন্দা। কাটাখালী বাজারে ওষুধের দোকানের পাশাপাশি পল্লি চিকিৎসক হিসাবে রোগী দেখে থাকেন তিনি।

শিশু আমিনার বাবা জাহিদুল ইসলাম জানান, সোমবার দুপুরে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় মাছ কাটা বটি দায়ে শিশু আমিনার বাম পা কেটে যায়। এতে তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। তাকে চিকিৎসার জন্য কাটাখালী বাজারের পল্লি চিকিৎসক রফিকের কাছ থেকে ওষুধ নিতে নিয়ে যাওয়া হয়। রফিক আমিনার পায়ে ৯টি সেলাই দেয়। এরপর তার শরীরে ডিপথেরিয়া ও টিটেনানের ভ্যাকসিন প্রয়োগ করেন। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানীর এ ভ্যাকসিনটি বয়স্ক ও কমপক্ষে ১১ বছর বয়সীদের জন্য হলেও ওই চিকিৎসক ৩ বছরের এ শিশুর শরীরে প্রয়োগের পর পরই সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। দীর্ঘ ৭ ঘন্টা চেষ্টার পর তার জ্ঞান ফিরে আসে।

শিশুটির বাবা আরও জানান, ওষুধটির মেয়াদ ১০দিন আগে শেষ হয়েছে। তারপরও রফিক তার সন্তানের শরীরে এটা পুশ করেছে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই কামারখন্দ থানায় রফিরের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আমি এর উপযুক্ত বিচার চাই।

এ বিষয়ে জানতে চেয়ে অভিযুক্ত পল্লি চিকিৎসক রফিকুল ইসলামের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কোনো জবাব না দিয়ে ফোন কেটে দেন।

কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, আমিনার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে ভাল আছে। এ ভ্যাকসিনটি প্রয়োগের অনুমতি নেই পল্লি চিকিৎসক রফিকের। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।

এদিকে কামারখন্দ থানার ওসি নূর নবী প্রধান জানান, এ ঘটনায় শিশুর বাবা বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযুক্ত রফিক পলাতক রয়েছে। তাকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেরিনা সুলতানা বলেন, দোষী রফিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।