রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা এ এম আমিন উদ্দিনের সঙ্গে তার কার্যালয়ে বৈঠক করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলের নেতা রিকার্ডো চেলেরিসহ চারজন প্রতিনিধির সঙ্গে গতকাল দুপুর ২টা থেকে পৌনে এক ঘণ্টা এ বৈঠক চলে। এতে বাংলাদেশে নির্বাচনী আইন, ফৌজদারি ও দেওয়ানি এবং নাগরিকদের অধিকারের আইন নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।
অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনীর, শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ ও মোহাম্মদ মেহেদী হাছান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এদিকে বৈঠক চলাকালীন এবং প্রতিনিধি দল চলে যাওয়ার সময় অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের নিচে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা বিভিন্ন দাবি নিয়ে স্লোগান দেন।
বৈঠকের বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওনারা (প্রতিনিধি দল) নির্বাচনী আইন সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলেছেন। আমাদের দেশের প্রচলিত আইনটা কি, আইনগুলো কীভাবে হয়, কীভাবে তা প্রয়োগ হয় তা জানতে চেয়েছেন। নির্বাচনকালীন সময়ে আরপিও আইনগুলো, ফৌজদারি, দেওয়ানি এবং নাগরিকদের অধিকারের বিষয়ে যে আইনগুলো আছে সেগুলো জানতে চাইলেন।’
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কিংবা সুনির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘মূলত তারা বাংলাদেশের আইনগুলো সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। আইনগুলোতে কি আছে না আছে সেগুলো বলেছি।’
সরকার বিরোধী পক্ষের মামলা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নে এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, ‘না, ব্যক্তিগত বা বিশেষ কোনো মামলা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। শুধু আইন সম্বন্ধে জানতে চেয়েছেন। আমরা তা জানিয়েছি।’ কোনো আইন সংশোধনীর বিষয়ে তাদের অভিমত ছিল কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সংশোধনীর প্রস্তাবটা কারা দেবে? যারা এই আইনের সঙ্গে সম্পৃক্ত তারা দেবে। অন্য কেউ তো এটা দেয় না।’
এদিকে বৈঠক চলাকালীন সময়ে সুপ্রিম কোর্টে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের সামনে বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে স্লোগান দেন। বৈঠক শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় কার্যালয়ের সামনে ইইউ’র প্রতিনিধি দলের গাড়ির সামনে তারা ‘উই ওয়ান্ট ডেমোক্রেসি’ ‘উই ওয়ান্ট কেয়ারটেকার’ ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান দিয়ে প্রতিনিধি দলের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন।
এ সময় কার্যালয়ের সামনে কিছুটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মিছিলের কারণে প্রতিনিধি দলের গাড়িটি কিছুক্ষণ আটকে থাকে। পুলিশ তৎপর হওয়ার পর গাড়িটি সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ ছেড়ে যায়।
এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা (মিছিল স্লোগান) হোক। ডেমোক্রেসি আছে না। আমার কি করার আছে।’
একপর্যায়ে বলেন, ‘এই যে মিছিল স্লোগান এটা কিন্তু ১৯৯৪ সালে উচ্চ আদালতের যে আদেশ ছিল এটার পরিপন্থী।’