ডাকাতি করে ঢাকায় থাকে গাজীপুরের জঙ্গলে

চক্রের সদস্যরা সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন মানি এক্সচেঞ্জ ও ব্যাংক এলাকায় অবস্থান নিয়ে টার্গেট ফিক্সট করে। পরে মোটরসাইকেলে করে টার্গেটের পিছু নেয় চক্রের এক বা দুজন সদস্য। অন্য সদস্যরা অবস্থান নেয় একটি মাইক্রোবাসে। টার্গেট ব্যক্তির পিছু নেওয়া চক্রের সদস্যদের পাঠানো তথ্যানুযায়ী মাইক্রোবাস সুবিধাজনক স্থানে পৌঁছে যায়। এরপর ডিবি পরিচয়ে টার্গেট ব্যক্তিকে মাইক্রোবাসে তুলে সর্বস্ব লুটে নেওয়া হয়। এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় ডাকাতি করে আসছিল চক্রটি। চক্রের মূলহোতা শহিদুল ইসলাম মাঝি ওরফে শহিদ মাঝি একসময় ডিবির সোর্স হিসেবে কাজ করত।

ডিবি বলছে, ২০১২ সালে শহিদ মাঝি নিজেই একটি ডাকাত দল গড়ে তোলে। প্রায় একযুগ ধরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি করে আসছিল। এ পর্যন্ত ডাকাতির ঘটনায় সাতটি মামলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে থাকত গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার মৌচাক এলাকায় একটি জঙ্গলে। সারা দিন ডাকাতি শেষে সেখানে বানানো একটি ছোট ঘরে ফিরে যেত। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। নিজের দলের ছয় সদস্যসহ গ্রেপ্তার হয়েছে শহিদ মাঝি। এ ছাড়া অন্য একটি ডাকাত দলের নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ দুই ডাকাত দলই একে অন্যের চেনাজানা। ক্যান্টনমেন্ট থানার একটি ডাকাতি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে দুর্ধর্ষ ১৬ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগ।

গ্রেপ্তার অন্যরা হলো সাগর চন্দ্র মালি, শাহ আলম হাওলাদার, কামরুল ইসলাম ওরফে রমিজ তালুকদার, মাকসুদুল মোমিন ওরফে শামীম, হাসান, নুরুল ইসলাম, খলিলুর রহমান ওরফে মাগার, আকরাম হোসেন, দ্বীন ইসলাম ওরফে কাউছার আহম্মেদ, ইলিয়াছ আহম্মেদ ওরফে নিরব, ফরহাদ আলী, রিয়াজ হোসেন হাওলাদার ওরফে রিয়াজুল, শফিকুল ইসলাম লিটন, সেরাজুল ইসলাম ও জহিরুল ইসলাম পিন্টু। তাদের কাছ থেকে ৩০টি মোবাইল ফোন, একটি মাইক্রোবাস, ডিবি জ্যাকেট, হ্যান্ডকাফ ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ এসব তথ্য জানান।