ছাত্রদলের পদবঞ্চিতদের সড়ক অবরোধ-ভাঙচুর

নরসিংদীতে জোড়া হত্যা মামলার আসামি বিএনপি নেতা খায়রুল কবির খোকনের জামিন আদেশ বহাল রেখেছে আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন তিনি। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মোস্তাক আহাম্মেদ হাইকোর্টের জামিন আদেশ বহাল রেখেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশন সমিতির সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন।

এর আগে গতকাল সকালে খায়রুল কবির খোকনের আদালতে হাজিরা ঠেকাতে সড়ক অবরোধ করেছেন ছাত্রদলের পদবঞ্চিত নেতারা। আদালতে আসার পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা। এ সময় খায়রুল কবিরের আইনজীবীদের গাড়িবহরে হামলা চালিয়ে মাইক্রোবাসসহ তিনটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এতে পাঁচজন আইনজীবী আহত হন। তারা হলেনÑ আকলিমা আক্তার, জোনায়েদ উল্লাহ, হোসনে মোবারক, আবদুস সাত্তার ও রোকেয়া আক্তার।

জানা যায়, ছাত্রদলের দুই নেতা হত্যা মামলায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক খায়রুল কবির খোকন গত ৫ জুন হাইকোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন নেন। হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী ৬ সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশ অনুযায়ী গতকাল বিএনপি নেতা খোকন আদালতে হাজির হবেন, এমন সংবাদে ছাত্রদলের পদবঞ্চিত কয়েকশ নেতাকর্মী কাফনের কাপড় পরে সকাল থেকে ডিসি রোডে জড়ো হয়ে বিভিন্ন সেøাগান ও বিক্ষোভ করতে থাকেন।

খায়রুল কবিরের পক্ষে হাইকোর্টের আইনজীবীরা আদালতে ঢুকতে চাইলে পদবঞ্চিত নেতারা তাদের বহনকারী তিনটি গাড়ি ভাঙচুর করেন। এতে আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। পরে দুপুর ২টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মাধ্যমে বিএনপির নেতা খায়রুল কবির আদালতে আসেন। পরে আদালত হাইকোর্টের জামিনের আদেশ বহাল রাখেন।

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটি বাতিলের দাবিতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে আন্দোলন করে আসছেন ছাত্রদলের পদবঞ্চিত নেতারা। এর ধারাবাহিকতায় ২৫ মে ছাত্রদলের পদবঞ্চিত নেতারা মোটরসাইকেল নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। ওই সময় মিছিলে দুর্বৃত্তরা গুলি ছোড়ে। এতে ছাত্রদল নেতা সাদেকুর রহমান ও আশরাফুল গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় খায়রুল কবির খোকন ও তার স্ত্রী শিরীনসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে নিহত সাদেকুরের ভাই হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।