জনগণকে নিয়ে সরকারের সব হেডকোয়ার্টার দখল করব: ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটাতেই হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি দিচ্ছি না। গত কয়েক বছর ধরে বিএনপি মিছিল, সভা-সমাবেশ করলেও হরতাল অবরোধ করেনি।

তিনি বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের সবগুলো হেডকোয়ার্টার দখল করে নেব।

আজ শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে নোয়াখালীর শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামে 'মেহনতি মানুষের পদযাত্রায়' প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হাসান জাফির তুহিনের সভাপতিত্বে পদযাত্রায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আর কোনো সময় নেই, তাদের সময় শেষ। আমি পরিষ্কারভাবে বলেছি, আবারো বলছি, ভালো ছেলের মতো সুবোধ বালক-বালিকার মতো পদত্যাগ করেন, সংসদ ভেঙে দেন। যদি ভালোয় ভালোয় শুনে পদত্যাগ করেন তাহলে ভালো। তা না হলে ফয়সালা হবে রাজপথে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকলে, নিরপেক্ষ সরকার থাকলে, নির্দলীয় সরকার থাকলে আওয়ামী লীগের ভাত নেই। ত্রিশটি আসনও পেত না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের ডেকে বলেন, সবাইকে বলেন ভোট করতে আমি কোনো বাধা দেব না। আমরা ভাবলাম বোধ হয় শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে। কি করা যাবে বলেন। ভূতের মুখে রাম রাম। আগের রাতে ভোট হয়ে গেল। এখন আবার বলছেন, আমরা সুন্দর ভোট করব। আমাদের অধীনেই ভোট হবে। ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন হবে। আহারে কি আবদার। শিয়ালের কাছে বার বার কুমিরের বাচ্চা দেওয়া যাবে না। বারবারই খেয়ে ফেলবে। আমরা এবার আর খেতে দিব না।

তিনি আরও বলেন, এবার মানুষ জেগে উঠেছে। এক দফা এক দাবি শেখ হাসিনা কবে যাবি। কীভাবে তাদের বিশ্বাস করব? সুবর্ণচরে একজনকে শুধু ধানের শীষে ভোট দেওয়ার অপরাধে অকথ্যভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এভাবে তারা অসংখ্য মা-বোনকে বেইজ্জত করেছে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, আজকে শ্রমিক ভাইয়েরা বাজারে যেতে পারে না। বাজারে গেলে চাল কিনতে পারে না, ডাল কিনতে পারে না, মাংস কিনতে পারে না। ১০ টাকা চাল দেবে বলেছে, এখন ৯০ টাকা। ঘরে ঘরে চাকরি দেবে বলেছে, কোনো চাকরি হয়নি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে আট বছর কারাগারে রাখা হয়েছে। তিনি গণতন্ত্রের জন্য আপসহীন সংগ্রাম করেছেন।

ফখরুল বলেন, আমরা নির্বাচিত হলে রাষ্ট্র মেরামতের জন্য আমরা ৩১ দফা দিয়েছি। আমাদের নেতা তারেক রহমান এই ৩১ দফা দিয়ে আমাদের একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছেন।

পদযাত্রায় আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ্‌ বুলু, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন ফারুক, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম প্রমুখ।

এ সময় নোয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম হায়দার, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ আজাদ, জেলা যুবদলের সভাপতি মনজুরুল আজম সুমন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির সহযোগী সংগঠন কৃষক দল, শ্রমিক দল, মৎস্যজীবী দল, তাঁতী দল ও জাসাসের উদ্যোগে এই পদযাত্রায় নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা জেলার নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।