ইয়াবার বড় চালান নিয়ে রোহিঙ্গা নারীসহ আটক ৫

রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে ৪১ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেটসহ পাঁচজনকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। তাদের মধ্যে একজন রোহিঙ্গা নারীও রয়েছেন।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ডিএনসি ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ে ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ও বিভাগীয় প্রধান মো. মজিবুর রহমান পাটওয়ারী সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি জানান, গত বুধ ও বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রপ্তারকৃতরা হলো সাধন তনচংগ্যা, ফাতেমা, মোছা. মমিনা বেগম, ইয়াকুব আলী ও নাঈম।

ডিএনসি কর্মকর্তা মজিবুর রহমান বলেন, মাদক বহন করার সঙ্গে জড়িতরা নতুন নতুন রুট তৈরি করছে। এই রুট দিয়েই রাজধানীতে ইয়াবা নিয়ে আসছে তারা। সেই ইয়াবা দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে এই ইয়াবা পাচার হয়  বেশি।

আটকদের মধ্যে মমিনা বেগম মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয়  নেওয়া রোহিঙ্গা নারী। টাকার বিনিময়ে এই নারী রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে ইয়াবা নিয়ে ঢাকায় আসেন। আরেক নারী ফাতেমা বাংলাদেশের নাগরিক। তারা দুজন কক্সবাজার থেকে ইয়াবা নিয়ে ঢাকায় আসছিলেন লঞ্চে করে। তারা চাঁদপুর হয়ে সদরঘাট দিয়ে ঢাকায় আসেন। সদরঘাট থেকে চার হাজার ইয়াবাসহ তাদের আটক করা হয়।

তিনি বলেন, রাজধানীর গাবতলী দিয়ে বিশাল অঙ্কের মাদক উত্তরবঙ্গে যাবে এই তথ্যের ভিত্তিতে চায়ের দোকানি সেজে গাবতলীতে অবস্থান নেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সাধন তনচংগ্যাকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে ১১ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। নারীদের পেটিকোটের মধ্যে বিশেষ কায়দায় ইয়াবাগুলো লুকানো ছিল। এসব ইয়াবা যাচ্ছিল ঠাকুরগাঁও এবং রংপুরের দিকে। তিনি রাঙ্গামাটি দিয়ে ইয়াবা ঢাকায় নিয়ে আসতেন। তারপর উত্তরবঙ্গে পাঠাতেন অন্য লোকের মাধ্যমে। আরেকটি ঘটনা ছিল পুরোপুরি ভ্রমণের কায়দায়। আটক ইয়াকুব আলী মোটরসাইকেলে বিভিন্ন জেলা ভ্রমণ করে এমন একটি বেশভূষা ধরে চলাফেরা করতেন। তিনি কক্সবাজার থেকে ইয়াবা নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দিতেন। তার বিরুদ্ধে সাতটি মামলা রয়েছে।