দুই হলের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে আহত ২০

এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্তের জের ধরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে দুই হলের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শহীদ রফিক-জব্বার হলের শিক্ষার্থীরা সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাতে ইতিহাস বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের আবাসিক ছাত্র কাজী মহিউদ্দিন মিরাজ এক ছাত্রীকে নিয়ে নতুন কলাভবনের নিচে খাবার নিতে যান। এ সময় রফিক-জব্বার হলের কয়েক শিক্ষার্থী ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করেন। পরে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মিরাজ তার বন্ধুদের নিয়ে উত্ত্যক্তকারীদের একজন ইংরেজি বিভাগের ৫১তম ব্যাচের মো. রাফিকে মারধর করেন। এর জের ধরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল ও শহীদ রফিক-জব্বার হলের শিক্ষার্থীরা রবীন্দ্র চত্বরে (দুই হলের মধ্যবর্তী স্থান) সংঘর্ষে জড়ান। এ ঘটনায় ২০ শিক্ষার্থী আহত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছেন।

চিকিৎসাকেন্দ্রের উপপ্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা আবু জাফর মো. সালেহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, আহতদের মধ্যে ১২ শিক্ষার্থীর অবস্থা গুরুতর ছিল। কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাভারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে কাজী মহিউদ্দিন মিরাজ বলেন, রফিক-জব্বার হলের কয়েকজনের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের কয়েকজনের হাতাহাতি হয়। পরে দুই হলের সিনিয়ররা এসে বিষয়টি সমাধান করে দেন। কিন্তু হঠাৎ রাত সাড়ে ৩টার দিকে রফিক-জব্বার হলের শিক্ষার্থীরা হামলা চালান।

তবে ছাত্রী উত্ত্যক্তের বিষয়টি ভিত্তিহীন উল্লেখ করে মো. রাফি বলেন, ‘আমি এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম না। আমার যেসব বন্ধু সেদিন উপস্থিত ছিল, সবাই বিষয়টি জানে। আমার সঙ্গে মিরাজের পরিচয় ঘটনার দিনেই। আমাকে সে রবীন্দ্রনাথ হলের দিকে ডেকে নিয়ে যায় এবং অতর্কিতভাবে মারধর শুরু করে।’

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক নাজমুল হাসান তালুকদার বলেন, যে ঘটনাটি ঘটেছে তা অনাকাক্সিক্ষত, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। অন্য একটি জায়গার ঘটনা এখানে টেনে আনায় এত বড় ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের ঘটনার নিন্দা জানাই। যারা ছাত্রসুলভ আচরণ করছে না, তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে জড়িতদের বিচার হওয়া উচিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মো. রনি হোসাইন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে একটা প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। তদন্তের মাধ্যমে ডিসিপ্লিনারি বোর্ড থেকে দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।