আজ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে চায় বাংলাদেশ

নেপালকে ব্যাক টু ব্যাক হারানোর দারুণ সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশের মেয়েরা। ১৩ জুন নেপাল জাতীয় নারী ফুটবল দলের বিপক্ষে ২ ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচে অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল স্বাগতিকরা। তবে যোগ করা সময়ে সাবিত্রা ভান্ডারি সমতাসূচক গোল করে জিততে দেয়নি বাংলাদেশকে। শেষ মুহূর্তে রক্ষণের মুহূর্তের ভুলে গোল হজম করতে হয়েছিল।

এরকম ভুল আজ আর করতে চায় না দলটি। এই ম্যাচে জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়তে চায় তারা। মেয়েদের ম্যাচ পরীক্ষার আগের দিন বাফুফেতে ঘটেছে পদত্যাগের বড় ঘটনা। গতকাল দায়িত্ব ছেড়েছেন আলোচিত অ্যাঙ্গলো-অস্ট্রেলিয়ান টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পল স্মলি। এই ব্যক্তির কারণেই অভিমানে দায়িত্ব ছেড়েছিলেন সাবিনাদের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন। তার অনুপস্থিতি দলেও ফেলেছে নেতিবাচক প্রভাব।

শনিবার দলটির সঙ্গে সৌজন্যে সাক্ষাতে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। সেখানে গিয়ে মেয়েদের উৎসাহব্যঞ্জক বার্তা দিয়ে গেছেন। একই সঙ্গে মাঠে আরও সিরিয়াস থাকার তাগিদ দিয়েছেন তিনি, ‘শেষ ম্যাচে মেয়েরা ভালো খেলেছে, কিন্তু অনেক দিন পর খেলার কারণে ওদের একটু সমস্যা হয়েছে। এ কারণে লিড নিয়ে রাখতে পারেনি। ওদের আরও সিরিয়াস হতে হবে। কেননা, এখন আমরা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলতে যাচ্ছি। ওদের বলেছি, বাইরে কী হচ্ছে না হচ্ছে সেটা নিয়ে না ভাবতে, তোমরা ফুটবল খেলোয়াড়, তোমরা ম্যাচেই মনোযোগ দাও।’

মেয়েদের এই পর্যায়ে নিয়ে আসতে যার সবচেয়ে বড় অবদান সেই ছোটন দায়িত্ব ছেড়েছেন নানা বঞ্চনার শিকার হয়ে। ছোটনের অনুপস্থিতি দলে প্রভাব ফেললেও এ নিয়ে পড়ে থাকতে চান না বাফুফে সভাপতি, ‘কোচ পরিবর্তনের প্রভাব অবশ্যই পড়েছে। এটা সারা বিশ্বেই পড়ে। কিন্তু কোচ ভালো না করলে কোচ থাকবে না, খেলোয়াড় ভালো না করলে টিমের বাইরে চলে যাবে। আমার জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, ফুটবল বিশ্বে কারও জন্য কোনো স্থায়ী জায়গা নেই। এখানে কোচ, খেলোয়াড় আসবে-যাবে স্বাভাবিক ব্যাপার। কখনো ব্যক্তিগত কারণে, কখনো পারফম্যান্সের কারণে, এগুলো স্বাভাবিক বিষয়।’

ছোটনের বিদায়ের পর তার সহকারী মাহবুবুর রহমান লিটু দায়িত্ব চালিয়ে নিচ্ছেন। গতকালই বাফুফের দীর্ঘদিনের অ্যাঙ্গলো-অস্ট্রেলিয়ান কোচ পল স্মলি পদত্যাগ করায় এখন লিটুকেই নিতে হবে সব দায়িত্ব।