প্রথমার্ধের মতো দ্বিতীয়ার্ধেও কোনো দল গোল করতে না পারায় ২ ম্যাচ সিরিজের ভাগ্য গড়িয়েছিল টাইব্রেকারে। কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে শেষ হাসিটা অবশ্য এসেছে নেপাল। টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে জিতে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছেন সফরকারি নেপাল।
টাইব্রেকারে বাংলাদেশের হয়ে সামসুন্নাহার সিনিয়র ও মনিকা চামকা গোল করলেও শিউলি আজিম ও মারিয়া মান্দা গোল করতে ব্যর্থ হন। অন্য দিকে পাঁচ শটের চারটি জালে জড়িয়ে নেপাল শিরোপা জিতে গত সেপ্টেম্বরে সাফের ফাইনালে হারার প্রতিশোধ নেয়।
প্রথমার্ধের মতো দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমনে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। তবে ভাগ্য বিড়ম্বনায় প্রথমার্ধে গোল পায়নি স্বাগতিকরা। ম্যাচ শুরুর চতুর্থ মিনিটে বাংলাদেশ অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের ফ্রি-কিক ক্রস বার কাঁপিয়ে ফিরে আসে। জটলা থেকে বাংলাদেশের মাসুরা পারভীনের শট কোনমতে গোললাইন থেকে রক্ষা করেন নেপাল কিপার।
ম্যাচের ৩৬ মিনিটে মনিকা চাকমা বক্সে ঢুকে শট নেওয়ার আগেই নেপালের মার্কার বল কেড়ে নিলে আরেকটি ভালো সুযোগ নষ্ট হয়। ম্যাচের ৪৩ মিনিটে নেপাল প্রথম সুযোগ পায়। ৪৩ মিনিটে আগের ম্যাচের যোগ করা সময়ে নেপালের হয়ে সমতাসূচক গোল করা সাবিত্রা ভান্ডারি অবশ্য দুর্বল শটে পারেননি বাংলাদেশ কিপার রুপনা চাকমাকে পরাস্ত করতে। আর বিরতি যাওয়অর আগ মুহূর্তে সাবিত্রার আরেকটি শট দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় আয়ত্বে নেন রুপনা।
বিরতি থেকে তিনটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে ফিরে বাংলাদেশ। হাফ ফিট কৃষ্ণা রানী সরকার, তহুরা ও সানজিদা আক্তারের পরিবর্তে মাতসুশিমা সুমাইয়া, শাহেদা আক্তার রিপা ও ঋতুপর্ণা চাকমা মাঠে নামেন। এই তিন পরিবর্তনে আক্রমনের গতি বেড়েছে।
বিশেষ করে মাঝমাঠে মনিকা চামকা, মারিয়া মান্দা ও সাবিনা খাতুন প্রাধান্য বিস্তার করে চেষ্টা করেছেন দুই উইঙ্গার শাহেদা আক্তার ও ঋতুপর্ণা চাকমাকে দিয়ে আক্রমন সানাতে।
তবে সুমাইয়া সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। নেপাল দ্বিতীয়ার্ধে ঘর সামলানোতেই বেশি মনযোগ দিয়ে ম্যাচটা যায় টাইব্রেকারে। যেখানে স্নায়ুধরে রেখে নেপাল জিতে নেয় সিরিজ।