বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় আগুনে তাসকিন

বৃষ্টি এসে কি বাঁচিয়েই দিল আফগানদের? তাসকিন আহমেদের আগুনে বোলিংয়ের সামনে আফগানিস্তানের টপ অর্ডারের তখন ভঙ্গুর দশা। বলে বাউন্সের বিষাক্ত ছোবল, সেই সঙ্গে আছে গতি। তাসকিন কাল রহমানউল্লাহ গুরবাজকে আউট করে নিয়েছেন টি-টোয়েন্টিতে নিজের ৫০তম উইকেট। দিনশেষে বোলিং ফিগার ৪-০-৩৩-৩, তবে রান আর উইকেটের সংখ্যার আড়ালে লুকিয়ে আছে তাসকিনের বোলিংয়ের নিয়ন্ত্রিত আগ্রাসন।

উইকেটে সবুজের আভা ছিল সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। প্রথম ওভারেই চকচকে নতুন বলটা হাতে নিয়েছেন তাসকিন, শুরু থেকেই ব্যাটসম্যানকে পরাস্ত করতে চেয়েছেন গতি আর বাউন্সে। ম্যাচের চতুর্থ বলে ছয় মেরে খোলস ছেড়ে বের হতে চেয়েছিলেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ। পরের বলটাও শর্টই করলেন, তবে একটু কৌণিকভাবে, চালিয়ে খেলতে গিয়ে বল আকাশে উঠিয়ে দিয়েছিলেন গুরবাজ। বলের নিচে ক্যাচের আশায় জনাতিনেক ফিল্ডার জমে গেলেও তাসকিন কাউকে ভরসা না করে নিজেই নিয়েছেন ক্যাচ। তাতেই ৫৪তম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে এসে উইকেটের হাফসেঞ্চুরি করেছেন তাসকিন।

নিজের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে হজরতউল্লাহ জাজাইয়ের চারের মার হজম করেছিলেন তাসকিন। পরের দুটো বলে নিতে দেননি কোনো রান। চাপ বাড়ছিল জাজাইয়ের ওপর, চতুর্থ স্টাম্প বরাবর করা শর্ট বলটা সিøপ কর্ডনের ওপর দিয়ে খেলে চার রান আদায় করতে চেয়েছিলেন আফগান ব্যাটসম্যান, কিন্তু বল পাঠিয়েছেন লিটন দাসের গ্লাভসে। জাজাইয়ের বিদায়ে আসা মোহাম্মদ নবিও প্রথম বলে লেগ বিফোর উইকেটের জোরালো আবেদনে বেঁচে গেছেন। কারণ বল যাচ্ছিল লেগ স্টাম্পের বাইরে। দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলটাতেও দারুণ একটা বাউন্সারে নবিকে ভড়কে দিয়েছিলেন তাসকিন। প্রথম স্পেলে ২ ওভারে তাসকিনের বোলিং ফিগার ২-০-১৪-২।

ম্যাচের প্রথম আর তৃতীয় ওভার দুটো করেন তাসকিন। অধিনায়ক সাকিব আল হাসান তার বাকি দুটো ওভার জমিয়ে রেখেছিলেন ডেথ ওভারের জন্য। তবে বরাবরের মতোই ডেথ ওভারে এসে তাসকিন খানিকটা খরুচে হয়ে গেছেন। বৃষ্টিভেজা মাঠে ভারী বলে উঠছিল না বাউন্সও। নিজের তৃতীয় ওভারে এসে করিম জানাতের হাতে একটা চার ও একটা ছয়ের মারও হজম করেছেন, দিয়েছেন ১২ রান। ইনিংসের শেষ ওভারে অবশ্য প্রথম দুটো বলে রান দেননি, আউট করেছেন করিম জানাতকে। উড়িয়ে মারতে গিয়ে সীমান্তে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ধরা পড়েছেন জানাত। তার বিদায়ে ব্যাটিংয়ে আসা রশিদ খান ঠিকই মেরে দিয়েছেন একটি ছয়। শেষ বলটায় অবশ্য রশিদ ছিলেন দ্বিধাগ্রস্ত। ভেবেছিলেন ওয়াইড, তবে বাউন্সারটা এতটা উঁচু ছিল না বলেই মনে হয়েছে আম্পায়ারের। শেষ বলটাও তাই ডট।

সব মিলিয়ে ৩৩ রানে ৩ উইকেট হয়তো টি-টোয়েন্টিতে খুব উঁচু দরের বোলিং নৈপুণ্যের নিদর্শন নয়, তবে বৃষ্টির আগে তাসকিনের বলে ছিল আগুনের হলকা, যা টের পাচ্ছিলেন আফগান ব্যাটসম্যানরা। বৃষ্টি শুধু ম্যাচে বিঘœই ঘটায়নি, নিভিয়ে দিয়েছে তাসকিনের সেই আগুনে বোলিংয়ের মেজাজটাও।