বিম্বাবতী দেবী মণিপুরী নৃত্যের কিংবদন্তি পথপ্রদর্শক, গুরু বিপিন সিং এবং গুরু কলাবতী দেবীর সুযোগ্য কন্যা। তিনি মণিপুরী নৃত্যের বিভিন্ন ধারায় পারদর্শিতা অর্জন করার পাশাপাশি, পুং (মণিপুরী মৃদঙ্গ) বাদন শিখেছেন এবং থাং-তা (মণিপুরী সামরিক কলা বা মার্শাল আর্ট’)-এর মৌলিক বিষয়গুলোও শিখেছেন। রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্য বিভাগে এবং প্রেসিডেন্সি বিশ^বিদ্যালয়ের পারফর্মিং আর্টস বিভাগে অতিথি অধ্যাপিকা হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। প্রখ্যাত এই শিল্পী বর্তমানে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন মণিপুরী নৃত্যের নানান পরীক্ষা ও গবেষণামূলক কাজে। এরই ধারাবাহিকতায় বিম্বাবতী এখন ঢাকায়। বাংলাদেশের জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী ওয়ার্দা রিহাবের নাচের দল ‘ধৃতি নর্তনালয়’-এর আমন্ত্রণে গতকাল থেকে তিন দিনব্যাপী মণিপুরী নৃত্যের কর্মশালা পরিচালনা করছেন তিনি। ধৃতির ৪০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে এ কর্মশালায়। ১৯ জুলাই এর সমাপনী অনুষ্ঠান ও সনদ প্রদান করা হবে।
ভারত এবং বিশ্বের অনেক দেশে বিভিন্ন নৃত্যোৎসবে তার নৃত্য বিপুলভাবে প্রশংসিত। বিম্বাবতী দেবী ভারতের বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। যেমন জাতীয় সংগীত নাটক আকাদেমির উস্তাদ বিসমিল্লাহ খান যুব পুরস্কার, মধ্যপ্রদেশ সরকারের রাষ্ট্রীয় কুমার গন্ধর্ব সম্মান, আদিত্য বিড়লা কলা কিরণ পুরস্কার, দিল্লির বিখ্যাত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতি পুরস্কার। সম্প্রতি তিনি ভারত সরকারের মর্যাদাপূর্ণ Senior National Fellowship পেয়েছেন। বিম্বাবতী দেবীর খালা শ্রীমতী শান্তিবালা দেবী বাংলাদেশে গুরু বিপিন সিংয়ের মণিপুরী নৃত্য ধারার প্রবর্তক। তার মা শ্রীমতী কলাবতী দেবী বাংলাদেশে এই নৃত্যধারার বিপুলভাবে প্রচার ও প্রসার করেন। বাংলাদেশের বহু বিখ্যাত নৃত্যশিল্পী ওনার শিষ্য। বিম্বাবতী দেবীও বাংলাদেশের মর্যাদাপূর্ণ সংস্থা এবং নৃত্যানুষ্ঠানে পরিবেশনা করেছেন। ২০১৮ সালে তার বাবা গুরু বিপিন সিংয়ের ১০০তম জন্মবর্ষ পালন করা হয়। মুজিব বর্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে কোরিওগ্রাফার হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।