রাশিয়ার ক্রিমিয়া সেতুতে ‘জরুরি অবস্থা’, নিহত দুই

জরুরি পরিস্থিতি উল্লেখ করে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে ক্রিমিয়ার সংযোগ ঘটানো ক্রিমিয়া সেতুটি সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় দুইজন নিহত এবং একজন শিশু আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্মকর্তারা।

এতে করে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে সেতুটিতে। এ ছাড়া জনগণকে সংযোগ সেতুটির ব্যবহার এড়াতে বলেছেন কর্মকর্তারা।

রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় বেলগোরোড অঞ্চলের গভর্নর ভ্যাচেস্লাভ গ্ল্যাডকভ টেলিগ্রামে জানান, “সেতুতে একটি ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি দেখা গেছে। সেখানে হতাহতদের মধ্যে এক দম্পতি এবং তাদের মেয়েও রয়েছে। সবচেয়ে কঠিন বিষয় হল তার বাবা-মা মারা গেছে এবং শিশুটি আহত হয়েছে। “

সোমবার ইউক্রেনের মিডিয়াতে ব্রিজটিতে বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ করার পরপরই ক্রিমিয়ায় নিযুক্ত মস্কোপন্থি গভর্নরের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা আসে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানায় আল জাজিরা।

ইউক্রেন সংবাদ সংস্থা আরবিসি জানিয়েছে যে সেতুতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। অন্যদিকে, ওয়াগনার দলের সাথে সম্পৃক্ত একটি টেলিগ্রাম চ্যানেল রাশিয়ার গ্রে জোন জানিয়েছে যে সেতুটিতে স্থানীয় সময় মাঝরাত ৩টা ৪ মিনিট থেকে ৩টা ২০মিনিটের মধ্যে দুটি হামলা হয়েছে।

পরবর্তীতে মস্কোর গভর্নর সের্গেই আকসিওনভ জানান, সেতুর ১৪৫তম পিলারে ‘জরুরি ঘটনা’ ঘটেছে। এই সেতুটি রাশিয়ার ক্রাসনোদারকে যুক্ত করেছে।

সোমবার টেলিগ্রামে এক বার্তায় তিনি আরও জানান, এই মুহূর্তে ক্রিমিয়া সেতুতে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। পরিস্থিতি সামলাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

এদিকে রুশ বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, ক্রিমিয়া সেতুতে "জরুরি পরিস্থিতির" কারণে ট্রেন চলাচলও পরিবর্তন করা হতে পারে।

তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি ইউক্রেনের পক্ষ থেকে। এ ছাড়া স্বাধীনভাবে প্রতিবেদনগুলি যাচাই করতে সক্ষম হয়নি বলে জানায় আল জাজিরা।

২০১৪ সালে সামরিক অভিযান চালিয়ে ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রিমিয়া দ্বীপের দখল নেয় রাশিয়া। পরে দ্বীপটির সঙ্গে রাশিয়ার সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য দীর্ঘ ১৯ কিলোমিটার সেতুটি নির্মাণ করা হয়।