জমির ভাগ নিয়ে মৃত শাশুড়ির দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুত্রবধূর বিরুদ্ধে। এমনকি মৃত শাশুড়ির জন্য খোঁড়া কবরে পুত্রবধূ নিজেই শুয়ে কবর দিতে বাধা দেন বলেও জানা যায়।
গতকাল সোমবার বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার লোহালিয়া গ্রামের এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাবুগঞ্জ উপজেলার লোহালিয়া গ্রামের মৃত মোবারক আলী খানের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৮০) গতকাল ভোরে মারা যান। পরিবারের লোকজন তাকে দাফন করার জন্য কবর খোঁড়েন। কিন্তু সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে আনোয়ারা বেগমের পুত্রবধূ শাহনাজ বেগম (৪০) কবরে শুয়ে দাফনে বাধা দেন। গ্রামবাসী ও আত্মীয়স্বজনেরা অনেক অনুরোধ করেও তাকে বুঝাতে ব্যর্থ হয়ে পুলিশকে ঘটনা জানান। পরে বেলা ১১টার দিকে পুলিশ ওই বাড়িতে গিয়ে আনোয়ারা বেগমের দাফন সম্পন্ন করে।
মৃত আনোয়ারা বেগমের পাঁচ মেয়ে ও এক ছেলে। ছেলে আবদুর রহিম সৌদিপ্রবাসী। দাফনে বাধা দেওয়া শাহনাজ বেগম আবদুর রহিমের স্ত্রী।
প্রতিবেশীরা জানান, জমির ভাগ নিয়ে শাশুড়ি ও ননদদের সঙ্গে পুত্রবধূ শাহনাজের ঝামেলা রয়েছে। শাশুড়ি আনোয়ারা বেগম মৃত্যুর আগে তার দাফনের জন্য ওই জায়গা নির্ধারণ করে গিয়েছিলেন। কিন্তু পুত্রবধূ শাহনাজ দাবি করেন ওই জায়গা তাদের ভাগের এজন্য সে দাফনে বাধা দেন। শ্বশুরের কবরের পাশে শাশুড়িকে দাফন করতে বলেন। কিন্তু ননদেরা মায়ের ইচ্ছা অনুযায়ী ওই স্থানেই তাকে দাফন করার সিদ্ধান্ত নেন। এ নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে শাহনাজ খোঁড়া কবরে শুয়ে পড়েন এবং দাফনে বাধা দেন।
উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মৃধা মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, জমি নিয়ে বিরোধে এ ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ এসে পুত্রবধূকে তাদের হেফাজতে নেয়। এরপর শাশুড়িকে দাফন করা হয়েছে।
বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তুষার কান্তি মণ্ডল বলেন, বিষয়টি নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হওয়ায় আমি বিপুলসংখ্যক পুলিশ নিয়ে ওই বাড়িতে যাই এবং গৃহবধূকে সদ্য খোঁড়া কবর থেকে তুলে হেফাজতে নিয়ে মারা যাওয়া নারীর দাফন সম্পন্ন করতে সাহায্য করি। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নিলে সেখানে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারত।