জয়পুরহাটে মহিলা ও শিশুবিষয়ক অধিদপ্তর পরিচালিত কিশোর-কিশোরী ক্লাবগুলো নানা অনিয়ম ও জোড়াতালি দিয়ে চলছে। সৃজনশীল এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সমাজের বিভিন্ন স্তরের কিশোর-কিশোরীদের সম্পৃক্ত করাসহ নির্যাতন, বাল্যবিবাহ ও মাদক প্রতিরোধ এবং প্রজননস্বাস্থ্য ইত্যাদি বিষয়ে সচেতন করা সরকারি এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য। কিন্তু নানা অব্যবস্থাপনায় ক্লাব থেকে মুখ ফিরিয়ে এসব কর্মকাণ্ডে আগ্রহ হারাচ্ছে কিশোর-কিশোরীরা। জেলায় ৩৭টি ক্লাবের প্রশিক্ষণার্থীদের প্রতিদিনের নাশতার জন্য ৩০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও দেওয়া হচ্ছে ১০-২০ টাকার নাশতা। যদিও জেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা বলছেন, সবকিছু মনিটরিং করা হচ্ছে, ক্লাব পরিচালনায় নিয়মের কোনো ব্যত্যয় হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে এ জেলায় ৩৭টি ক্লাব গঠন করা হয়। এসব কিশোর-কিশোরী ক্লাব পরিচালনায় রয়েছে গরমিল। প্রতি শুক্র ও শনিবার ক্লাবগুলোতে সংগীত, আবৃত্তি, কারাতে ক্লাস হয়ে থাকে। কিন্তু শিক্ষকরা সময়মতো ক্লাসে না যাওয়া এবং প্রশিক্ষণার্থীদের নাশতার জন্য জনপ্রতি সরকারি বরাদ্দের ৩০ টাকার পরিবর্তে ১০ থেকে ২০ টাকার নাশতা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। গত কয়েক মাস ক্লাবগুলোতে নাশতা দেওয়া বন্ধ ছিল। এ ছাড়া বেশিরভাগ ক্লাবে দক্ষ শিক্ষক না থাকায় আগ্রহ হারাচ্ছে ক্লাবের সদস্যরা। এমনকি কোনো কোনো ক্লাব বন্ধ থাকে। প্রতি ক্লাবের সদস্য সংখ্যা ৩০ জন হলেও অনেক ক্লাবেই মাত্র ৫-১০ জনের উপস্থিতি দেখা যায়।
ক্লাবে যন্ত্রপাতির জন্য ৫ হাজার, শিক্ষকদের দৈনিক ভিত্তিতে ভাতা ৫০০ এবং কিশোর-কিশোরীদের নাশতাবাবদ প্রতি মাসে ২ লাখ ৬৬ হাজার ৪০০ টাকা সরকার বরাদ্দ দিয়ে থাকে। কিন্তু বিভিন্ন ক্লাব ঘুরে ৫ থেকে ১০ জন সদস্যের উপস্থিতি দেখা যায়। তাও আবার ৩০ জনের ৩০ টাকার নাশতার বদলে ৫ থেকে ১০ জনকে দেওয়া হয় ১০ থেকে ২০ টাকার নাশতা। অবশিষ্ট অর্থ কোথায় যাচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
ক্লাবের সদস্য সুমাইয়া আক্তার, তাসলিমা আক্তার ও নুসরাত জাহান রিয়াসহ অনেক শিক্ষার্থী দেশ রূপান্তরকে বলেন, তারা ক্লাবের সদস্য হলেও কোনো কিছুই ভালোভাবে শিখতে পারছেন না। সময়মতো শিক্ষকরা ক্লাসে আসেন না। এ ছাড়া শিক্ষকদের অবহেলার কারণে অনেক সদস্য ক্লাবে আসতে চায় না।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ক্লাবের শিক্ষক রবিন আহম্মেদ ও উর্পিতা বলেন, কিছুদিন শিক্ষার্থীদের নাশতা দেওয়া হয়নি বলে উপস্থিতি কমে গেছে। আর কোনো ক্লাবেই ৩০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকে না।
জয়পুরহাট সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অশোক কুমার ঠাকুর বলেন, ‘নানা খারাপ কাজ থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখতে সরকারের একটি মহৎ উদ্যোগ এ ক্লাব। কিন্তু বেশিরভাগ ক্লাবে সদস্যদের উপস্থিতি কম ও দক্ষ শিক্ষক নেই। এ কারণে সরকারের উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ক্লাসে উপস্থিতি ও নাশতা ঠিকমতো দেওয়া হচ্ছে কি না, তা তদারকি করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জয়পুরহাট মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক লায়লুন নাজমা বেগম বলেন, ‘জয়পুরহাটে ৩৭টি কিশোর-কিশোরী ক্লাব চলমান আছে। প্রতিটি ক্লাসে একজন সংগীত ও একজন আবৃত্তি শিক্ষক আছেন। বিভিন্ন বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কিশোর-কিশোরী ক্লাবগুলো কাজ করে যাচ্ছে। নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে, ক্লাব পরিচালনায় নিয়মের কোনো ব্যত্যয় হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’