পিএসজির সৌভাগ্য লিওনেল মেসি, নেইমার ও কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো খেলোয়াড়কে এক সঙ্গে পেয়েছিল তারা। ২০২১ সালে বার্সেলোনা ছেড়ে মেসি যখন পিএসজিতে যোগ দেন, বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর তিন ফরোয়ার্ডকে অন্য দলগুলো কীভাবে সামলাবে, তা নিয়ে আলোচনা ছিল ফুটবল বিশ্বে। কিন্তু এই ত্রয়ী সাফল্য পায়নি। সাফল্য বলতে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে পারেনি।
ঠিক কী কারণে ব্যর্থ হলো এই ত্রয়ী? ব্যাখ্যা দিয়েছেন নেইমার নিজেই। ইএসপিএন ব্রাজিলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্রাজিল তারকা ব্যাপারটিকে ফুটবলের অংশ হিসেবেই মনে করেন। তিনি এই ব্যর্থতার সঙ্গে তুলনা করেছেন এ শতকের শুরুতে রিয়াল মাদ্রিদের ‘গ্যালাকটিকো’ দলটিকে। তারকাখচিত দলটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে পারেনি। পিএসজিও মেসি-নেইমার-এমবাপ্পের আক্রমণ-শক্তি নিয়ে জিততে পারেনি চ্যাম্পিয়নস লিগ।
‘গ্যালাকটিকোও রিয়াল মাদ্রিদকে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতাতে পারেনি। সুতরাং এমন হতেই পারে। আমাদের তিনজনকেই বিশ্বসেরা বলা হয়। পিএসজিতে আমাদেরকে নিয়ে একটা দুর্দান্ত দল গড়া হয়েছিল। আমাদের ব্যর্থতাটা পুরোপুরি ফুটবলীয়।’
বিস্তারিত বলতে গিয়ে নেইমার দুর্ভাগ্যের কথাই বলেছেন, ‘দুর্ভাগ্যক্রমে আমাদের দলে সমন্বয়টা ঠিক হয়নি। আমরা সবকিছুই জিততে চেয়েছি, কিন্তু আসল জিনিসই জিতিনি। আমরা নিজেরা কিন্তু ঠিক ছিলাম। কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু ফুটবলে অনেক সময় অনেক কিছুই ঘটে, যেটা প্রত্যাশিত নয়। আমাদের ব্যর্থতাটা তেমনই একটা জিনিস। ফুটবল তো আর কেক তৈরির রেসিপি নয়।’
২০২১ সালে মেসি পিএসজিতে আসার ব্যাপারটি আগে থেকেই জানতেন নেইমার। বার্সেলোনা মেসিকে আর্থিক সমস্যার কারণে ছেড়ে দিয়েছিল। তখন মেসির সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছিলেন নেইমার, ‘আমি ওর পিএসজিতে আসার বিষয়টা আগেই জেনেছিলাম। বার্সেলোনায় শেষ দুই সপ্তাহ খুব অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটিয়েছিল মেসি। আমি ওই সময় ওকে অনেকবার জিজ্ঞাসা করেছি, সে বার্সেলোনা ছেড়ে কোথায় যাবে। কিন্তু সে কিছুই বলতে পারছিল না। পরে পিএসজির সঙ্গে কথা পাকা হওয়ার পর সে আমাকে তা জানায়। মেসি প্যারিসে দুই বছর মোটেও আনন্দ নিয়ে থাকতে পারেনি।’
মেসি ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ায় খুশি নেইমার। ব্রাজিলিয়ান তারকা মনে করেন বন্ধু মেসি ও তাঁর পরিবার মায়ামিতে ভালো সময়ই কাটাবে, ‘আমি মেসি ও তাঁর পরিবারকে খুব ভালো করেই জানি। ওরা অন্যরকম জীবন যাপন করে। যে জায়গায় মেসি সম্মান পায়, সেখানে থাকতে সে পছন্দ করে। মায়ামিতে ওরা ভালোই থাকবে। প্যারিসে মেসির সঙ্গে গত দুই বছরটা খুব সহজ ছিল না। মেসি দারুণ একজন মানুষ। সেটা মাঠের চেয়েও মাঠের বাইরে অনেক বেশি। ব্যক্তিগত জীবনে একেবারেই অন্যরকম। আমি মায়ামিতে মেসির সাফল্য কামনা করি।’
ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জেতানোর স্বপ্ন নিয়ে কাতার গিয়েছিলেন নেইমার। সেই স্বপ্ন পূরণে ব্যর্থ হওয়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। আরেক সাক্ষাৎকারে নেইমার বলেন, ‘সত্যি বলতে বিশ্বকাপের পর আমি আর (জাতীয় দল) ফিরতে চাইনি। কিন্তু নতুন করে আবারও ভাবতে হয়েছে।’
কেন সেই ব্যাখ্যায় নেইমার বলেন, ‘আমি তো সাফল্যের জন্য ক্ষুধার্ত, তাই না? তাই ওই ভাবনা পুনর্বিবেচনা করে পাল্টাতে হয়েছে। বিশ্বকাপের পর আমি আর কষ্ট পেতে চাইনি। কিন্তু পরিবারকে ভুগতে দেখাটাও কষ্টকর।’
বিশ্বকাপের চোটের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে নেইমারকে। গ্রুপ পর্বে দুটি ম্যাচ মিসও করেন তিনি। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ের খেলা গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে দলকে এগিয়ে নেন নেইমার। কিন্তু সেই লিড ধরে রাখা যায়নি। পরে তো টাইব্রেকারে হার।
নেইমার বলছেন, ‘আমি টানা পাঁচ দিন কেঁদেছি। ওভাবে স্বপ্ন চূর্ণ হওয়ায় খুব কষ্ট পেয়েছিলাম।’
গোল করেও জিততে না পারার দুঃখটাই বেশি নেইমারের, ‘০–০ ব্যবধানে থেকে টাইব্রেকারে ম্যাচ হারব এবং কোনো গোল করব না—সেটা মেনে নিতে রাজি আছি। কিন্তু গোল করব, এরপর গোল হজম করে টাইব্রেকারে হারব—সেটা মেনে নেওয়া খুব কঠিন।’