ব্রিটিশ হাইকমিশনারকে যা জানাল বিএনপি

আওয়ামী লীগের অধীনে নির্বাচন গত ১৭ জুলাই অনুষ্ঠিত ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনের মতো হবে বলে ব্রিটিশ হাইকমিশনারকে জানানো হয়েছে বিএনপির পক্ষ থেকে। বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি নেতারা এ কথা জানিয়েছেন।

বৈঠকে অংশ নেয়া এক নেতা রাতে দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘বৈঠকে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত আমাদের কাছে জানতে চান আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে বর্তমানে নির্বাচনের পরিবেশ বিরাজ করছে কি না। জবাবে আমরা তাকে জানিয়েছি গত ১৭ জুলাই রাজধানী ঢাকায় একটি উপনির্বাচন হয়েছে। আপনার সে নির্বাচন দেখেছেন। ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপিসহ বড় রাজনৈতিক দলগুলো অংশ নেয়নি। নির্বাচনে ভোট পড়েছে মাত্র ৯ শতাংশ। শুধু তাই নয়, নির্বাচনের শেষ সময়ে হিরো আলমের মতোন একজন দুর্বল প্রার্থীকে প্রকাশ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সামনে মারধর করেছে; অথচ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখেছে। হিরো আলমকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি তারা।’

ওই সদস্য বলেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারী মনোভাবের বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হয়নি। সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে গত মঙ্গল ও বুধবার রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেছি। রাজধানী ঢাকায় পদযাত্রা কর্মসূচিতে হামলা করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ছাড়া বগুড়া, খাগড়াছড়ি, লক্ষ্মীপুর, কিশোরগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে হামলা করেছে। পুলিশের গুলি ও টিয়ারসেলে লক্ষ্মীপুরে কৃষক দলের কর্মী সজিবকে হত্যা করেছে স্থানীয় ছাত্রলীগের সভাপতি। ১৮ ও ১৯ জুলাই দুদিনের পদযাত্রা কর্মসূচিতে নিহত হয়েছেন একজন, আহত নেতাকর্মীর সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার, গুলিবিদ্ধ হয়েছে প্রায় দুই হাজারের অধিক। এ ছাড়া সারাদেশে মামলা হয়েছে ৩১০টি, গ্রেপ্তার হয়েছে প্রায় ১৩০০ নেতাকর্মী এবং আসামি করা হয়েছে ১১ হাজারের অধিক নেতাকর্মীকে।’

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে যুক্তরাজ্যের ঢাকা দূতাবাস একটি টুইট করেছে। টুইটে বলা হয়েছে, ‘ব্রটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক আজ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এসব বৈঠকে তারা যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশের সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করেছেন। যুক্তরাজ্য বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনকে উৎসাহিত করে।’

এদিকে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠক থেকে বেরিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া দেশে সুষ্ঠু ভোট সম্ভব নয়। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে প্রতিনিয়ত বিদেশিদের বার্তাই প্রমাণ করে এ দেশে কোনো নির্বাচন হচ্ছে না, মানুষ ভোট দিতে পারছে না।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চায় যুক্তরাজ্য। গেল এক সপ্তাহে বাংলাদেশের হামলা-মামলা, মৃত্যু ও সরকারি কর্মকর্তাদের রদবদল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে তারা দৃষ্টি রাখছেন বলে আমাদের জানিয়েছেন।’

এর আগে বিকেল ৩টায় ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের বৈঠক শুরু হয়। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ব্রিটিশ হাইকমিশনের পলিটিক্যাল কাউন্সিলর টিমোথি ডকেট।

অন্যদিকে বিএনপি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার সঙ্গে ছিলেন দলটির ফরেন অ্যাফেয়ার্স বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ।

উল্লেখ্য আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করছেন বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন সবার অংশগ্রহণে ও সুষ্ঠুভাবে যেন হয় সরকার ও সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে সেই তাগিদ দিচ্ছেন কূটনীতিকরা।