গাইনেকোমাস্টিয়া কেন হয়

স্বাস্থ্যগত কারণে পুরুষের স্তন বড় হয়ে যাওয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘গাইনেকোমাস্টিয়া’, Gynecomastia। শারীরিক এই পরিবর্তন যেমন অস্বস্তিকর, অনেকের জন্য তেমনি আবার দুশ্চিন্তারও কারণ। বিশেষ করে এ সমস্যা পুরুষদের বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। ‘গাইনেকোমাস্টিয়া’ দুই ধরনের হয়ে থাকে। যেমন : শুধু ফ্যাটি টিস্যু বা চর্বি জমে স্তনের জায়গায় ফোলাভাব হলে তাকে সিউডোগাইনেকোমাস্টিয়া বলা হয়। আবার গ্ল্যানডুলার টিস্যু ও ফ্যাটি টিস্যুর সংমিশ্রণে সৃষ্ট ফোলাভাবকে প্রকৃত ‘গাইনেকোমাস্টিয়া’ হিসেবে ধরা হয়।

কারণ : ইস্টোজেন নামক মেয়েলি হরমোন বেড়ে গেলে এমনটা হয়। আবার কিছু ওষুধ খেলে গাইনেকোমাস্টিয়া হতে পারে। কুষ্ঠ রোগ, লিভারের সমস্যা, কিডনির সমস্যা, ফাস্ট ফুড, অতিরিক্ত ওজন, হরমোনের সমস্যা, বয়োসন্ধিকালেও এমনটা হয়।

উপসর্গ : স্তন স্বাভাবিকের তুলনায় বড় বা ফোলা, স্তনে ব্যথা অনুভূত হওয়া ও স্তনে চাকা চাকা কিছু একটা অনুভূত হওয়া।

রোগ নির্ণয় : গাইনেকোমাস্টিয়া নির্ণয়ের জন্য সাধারণত বিশেষ কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন পড়ে না। বুকে হাত দিয়ে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেই একজন চিকিৎসক বিষয়টি বুঝতে পারেন। তবে যেহেতু হরমোনজনিত সমস্যা আর তাই শরীরে হারমোনের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা হলে চিকিৎসা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ছাড়াও স্তনের অন্যান্য রোগের সঙ্গে এর পার্থক্য নির্ণয়ের জন্য কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হয়।

হরমোনের পরীক্ষা হলো s.Testosterone, FSH, hcG, LH ইত্যাদি। অন্যান্য পরীক্ষা হলো : রক্ত পরীক্ষা, স্তনের আলট্রাসনোগ্রাফি, ম্যামোগ্রাফ, অন্ডোকোষের আলট্রাসনোগ্রাফি, বায়োপসি, লিভার ফাংশন টেস্ট ইত্যাদি।

চিকিৎসা : পুরুষের বৃদ্ধিপ্রাপ্ত স্তন কমিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার সবচেয়ে কার্যকর উপায় মেইল চেস্ট রিডাকশন সার্জারি। যারা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত স্তন নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভোগছেন তারা ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে পারেন।

সার্জারি ছাড়া অন্য চিকিৎসা হলো যাদের স্তন অতিরিক্ত ওজনের জন্য বড় হয়ে থাকে তাদের ক্ষেত্রে ওজন কমালে সারা শরীরের ওজনের সঙ্গে ২০ থেকে ৩০ ভাগ পর্যন্ত স্তনের চর্বিও কমতে পারে। তাই আগে ওজন কমিয়ে চেষ্টা করে দেখতে পারেন। যাদের হরমোনের অসামঞ্জস্যতার কারণে হয় তাদের হরমোনের ওষুধ দিলেও ১০-২০ ভাগ পর্যন্ত কমতে পারে। ফাস্ট ফুডের কারণে যাদের স্তন বড় হয়েছে, তারা ফাস্ট ফুড খাওয়া বন্ধ করলে স্তন কিছুটা ছোট হয়। কিছু ব্যায়াম আছে এর মাধ্যমে কিছুটা কমানো সম্ভব হলেও, পুরোপুরি কমবে না। তবে যাই হোক, প্রথম থেকেই একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করা উচিত। আর হরমোনের সমস্যা থাকলে হরমোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।