কিশোরগঞ্জে উদ্ধার বিলুপ্তপ্রায় মুখপোড়া হনুমান সাফারি পার্কে

গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে অতিথি হয়েছে বিলুপ্তপ্রায় মুখপোড়া হনুমান। কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ ও ইটনা দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম উত্তর চামটা ও চন্দ্রপুর এ দুটি গ্রামে বিচরণকরা একটি মুখপোড়া হনুমানকে উদ্ধার করে সাফারি পার্কে আনা হয়েছে।

শুক্রবার (২১ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে মুখপোড়া হনুমানটিকে হস্তান্তর করা হয়েছে। দলছুট হনুমানটি ওই এলাকায় ঘোরাফেরা করার সময় স্থানীয়রা প্রশাসনে খবর দেয়। পরে করিমগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী কর্মকতা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগে যোগাযোগ করলে তারা উদ্ধারে কাজ শুরু করে। পরে অন্তত দুই দিনের চেষ্টায় অচেতন করে ধরা হয় মুখপোড়া হনুমানটিকে।

জানা যায়, গত মঙ্গলবার থেকে কিশোরগঞ্জের ইটনা ও নিকলী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে হনুমানটি ঘোরাফেরা করছিল। বেশ কিছু এলাকায় দলছুট হনুমানটি স্থানীয় লোকজনের নানা ক্ষয়ক্ষতি শুরু করে। এ সময় ক্ষীপ্ত এলাকাবাসী উত্তেজিত হনুমানটিকে ধরতে চেষ্টা করে। পরে মানুষের ধাওয়া খেয়ে এলাকা বদল করে হনুমানটি। গত দুদিন ধরে করিমগঞ্জ ও ইটনাতে বিচরণ করে এটি।

এ সময় এলাকাবাসি স্থানীয় প্রশাসনে খবর দিলে তারা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগে খবর দেয়। তারা দুই দিন চেষ্টা করে এটিকে ধরতে সক্ষম হয়। বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগে একটি দল হনুমানটিকে ধরতে ট্রাঙ্কুলাইজ (সাময়িক অচেতন) গানের মাধ্যমে ধরার ব্যবস্থা করে।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ ঢাকার বন্যপ্রাণী পরিদর্শক নিগার সুলতানা দেশ রূপান্তরকে জানান, করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে খবর পেয়ে আমরা সেখানে যাই। ট্রাঙ্কুলাইজ গানের মাধ্যমে হনুমানটিকে নিস্তেজ করা হয়। পরে সেটিকে উদ্ধার করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে হস্তান্তর করা হয়েছে। পার্কে সেটি কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে।

তিনি বলেন, বিলুপ্তপ্রায় এ হনুমানটি আকারে বেশ বড় ছিল। তাই এটিকে ধরতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এটি দলছুট মুখপোড়া হনুমান। সিলেট অঞ্চলের কোনো বনাঞ্চল থেকে কোনো না কোনো ভাবে এ এলাকায় চলে আসে এটি। আর এরপর খাদ্যের সন্ধানে মানুষের বাড়ি ঘরে হামলে পড়ে হনুমানটি।

করিমগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী কর্মকতা পলাশ কুমার বসু মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরকে জানান, এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে আমরা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ ঢাকা বিভাগের সঙ্গে কথা বলি। পরে তাদের একটি উদ্ধার দল এসে অনেক চেষ্টা করে দলছুট মুখপোড়া হনুমানটিকে ধরতে সক্ষম হয়। স্থানীয় বনবিভাগ ও জনপ্রতিনিধিরাও সহযোগিতা করেছে হনুমানটিকে উদ্ধারে। দুই দিন ধরে চেষ্টার পর মুখপোড়া হনুমানটিকে ধরা যায়।

সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার হওয়া মুখপোড়া হনুমানটি পার্কে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন আমাদের পাকের্র সহকর্মী সুমন এটি ট্রাঙ্কুলাইজ করে। বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের দলের সঙ্গে আমাদের লোকজন কাজ করেছে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিদের্শমত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।