প্রিয় চকলেট

আমার ছোট বোন নিতু। ক্লাস টুতে পড়ে। চকলেট ভীষণ পছন্দ ওর। আমারও কম পছন্দ বলা যায় না। শুধু একটু বড় হয়ে গেছি বলে বায়না করাটা মানায় না। ওকে দিয়ে বাবাকে বলিয়ে বাক্সের পর বাক্স চকলেট আনাই। সবাই জানে ও ভীষণ চকলেট খায়। কিন্তু আমি বলি তার উল্টোটা, চকলেটই ওর দাঁতগুলো খায়। শুধু ও একা খায় বললে ভুল হবে। চকলেটের অর্ধেকটা আমার পেটেই যায়। কিন্তু কেন জানি না আমার দাঁতে পোকার আক্রমণ নেই। পোকাগুলো হয়তো বাবার কাছে আমাকে ধরিয়ে দিতে চায় না। আমি যে নিতুর ভাগ থেকে চকলেট সরাই তা মা ছাড়া কেউ জানে না।

বাবার অফিস এক সপ্তাহের মতো ছুটি থাকায় আমরা ঘুরতে যাব চিন্তা করলাম। চিটাগাং। ময়মনসিংহ থেকে সারা রাত ট্রেন জার্নি শেষে ভোরে গিয়ে পৌঁছাব। টিকিটের সঙ্গে সিট নম্বর মিলিয়ে আমি আর নিতু পাশাপাশি দুটো সিটে বসলাম। পেছনে মা-বাবা।

আমি কোথাও গেলে সঙ্গে চকলেট নিয়ে যাই। কিন্তু আজ তাড়াহুড়ো করে বের হওয়ার সময় পছন্দের কিছু বই, ডায়েরি সঙ্গে নিলেও চকলেটের কথা বেমালুম ভুলে গেছি। ট্রেনে বসে থেকে আর বাইরে রাস্তা দেখে দেখে ঘুম পেয়ে যাচ্ছিল আমার। নিতুর দিকে চোখ পড়তেই দেখলাম নিতু ওর ব্যাগ থেকে কিছু বের করছে। যা চিন্তা করেছিলাম তা-ই। চকলেট।

আমি একটা নেওয়ার জন্য হাত বের করতেই ও খপ করে দুটো একসঙ্গে মুখে পুরে নিল।

খুব রাগ হচ্ছিল আমার।

ওর দিকে তীরদৃষ্টি নিক্ষেপ করলাম আর মনে মনে কিছু বকাও দিয়ে দিলাম। কিন্তু একি! ও তো আমার দিকে না তাকিয়ে চকলেট খেয়েই চলেছে। চোখ খুলে আমাকে দেখেই দাঁতগুলো সব বের করে হেসে দিল। ওর সেই আধো আধো পোকায় খাওয়া দাঁতগুলো দেখে মনের অজান্তে আমিও হেসে ফেললাম।

জান্নাতুন তাজরি অনন্যা

দশম শ্রেণি, মধুপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়