পবিত্র কাবা প্রাঙ্গণে হিজরি নববর্ষের প্রথম জুমা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাবা প্রাঙ্গণে হিজরি ১৪৪৫ সালের প্রথম জুমার নামাজে ইমাম ছিলেন শায়খ ড. ইয়াসির আল দাওসারি।
তিনি উপস্থিত মুসল্লিদের পার্থিব জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে পরকালের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় মহররম মাসের মর্যাদা ও করণীয় সম্পর্কেও আলোচনা করেন তিনি।
নতুন হিজরি বছরের জুমায় বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করে মসজিদে হারামের নতুন মিম্বর। দীর্ঘদিনের চেনা বার্নিশ উড কালারের মিম্বরের বদলে নতুন অফ হোয়াইট কালারের মিম্বরে দাঁড়িয়ে খুতবা দেন তিনি।
আগের মিম্বরটি ছিল প্রাকৃতিক বিচ কাঠের তৈরি। এতে চারটি সিঁড়ি ও একটি আসন ছিল। এর উচ্চতা ৪২০ সেন্টিমিটার ও প্রস্থ ১৫৭ সেন্টিমিটার। এর ভেতরের অংশের ধারণক্ষমতা ১৫৪ সেন্টিমিটার।
নতুন মিম্বরটি যুগোসøাভ অ্যালাবাস্টার দিয়ে তৈরি এবং এতে ২৪টি বৈদ্যুতিক ব্যাটারিসহ ইমামের জন্য একটি এয়ার কন্ডিশনার ও রিমোট কন্ট্রোলের বৈশিষ্ট্য রয়েছে। মিম্বরে ইমাম আরোহণের পর সামনে দেখে দরোজা বন্ধ করে দেওয়া হয়, আর মিম্বরের চারপাশে নিরাপত্তা প্রহরীরা অবস্থান নেন।
বরাবরই মসজিদে হারামের সুদর্শন মিম্বর সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। আবু ওয়ালিদ মুহাম্মদ ইবনে আবদ-আজরাকি তার প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘আখবারে মক্কা’তে মসজিদে হারামের প্রথম মিম্বরের পরিচয় বর্ণনায় লিখেছেন, হারাম শরিফে মিম্বরের ওপর সর্বপ্রথম খুতবা দেন হজরত মুয়াবিয়া (রা.)। মিম্বরটি তিন সিঁড়িবিশিষ্ট ছিল। আমিরে মুয়াবিয়া হজের উদ্দেশ্যে সিরিয়া থেকে আসার সময় এটি সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন।
তার আগে মক্কার খলিফা ও গভর্নররা কাবার সামনে মাটিতে দাঁড়িয়ে জুমার খুতবা দিতেন। হজরত মুয়াবিয়া (রা.)-এর মিম্বরের পরে আরও একাধিক মিম্বর হারাম শরিফের সৌন্দর্য বর্ধন করেছে। তবে কোনো মিম্বরই স্থায়ীভাবে কাবা প্রাঙ্গণে স্থাপন করা হয় না। জুমার দিনে মসজিদে হারাম থেকে মিম্বরটি মাতাফে আনা হয়। খুতবার মিম্বরকে মসজিদে হারাম থেকে মাতাফ প্রাঙ্গণ পর্যন্ত স্থানান্তরের দায়িত্ব পালন করেন হারামাইন শরিফাইনের কারিগরি ও পরিষেবা বিষয়ক সাধারণ প্রশাসন।