দুই মাসের বেশি সময় ধরে ধর্মঘট করছেন হলিউডের চিত্রনাট্যকাররা। সম্প্রতি তাদের ধর্মঘটে যোগ দিয়েছেন ম্যাট ডেমন, কিলিয়ান মারফির মতো সুপারস্টারসহ আরও অভিনয়শিল্পী। যেসব দাবি তারা তুলেছেন, সেগুলোকে ন্যায়সঙ্গত মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। হলিউডের প্রভাবশালী স্টুডিও ও প্রযোজকরা কি তাদের দাবি মানবেন? লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া
দ্বন্দ্ব চরমে
ন্যায্য বেতন, উপযুক্ত কর্মপরিবেশসহ আরও কয়েকটি দাবিতে দুই মাসের বেশি সময় ধরে হলিউডের হাজারো চিত্রনাট্যকার ধর্মঘট করছেন। এর মধ্যে চিত্রনাট্যকারদের ইউনিয়ন ও মোশন পিকচার স্টুডিওগুলোর মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়নি। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে চিত্রনাট্যকারদের ধর্মঘটের প্রতি সংহতি জানান হলিউডের হাজার হাজার চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অভিনেতা। কেবল সংহতি জানিয়ে তারা তাদের দায়িত্ব শেষ করেননি, চিত্রনাট্যকারদের ধর্মঘটে তারা যোগও দিয়েছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘটে অংশ নেওয়া কেউই কাজ করবেন না। চলমান ধর্মঘট ছয় দশকে হলিউডের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ধর্মঘট। এর আগে ১৯৬০ সালে হলিউডের অভিনয়শিল্পী ও চিত্রনাট্যকাররা একসঙ্গে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন। সে সময় অভিনয়শিল্পীরা প্রায় ছয় সপ্তাহ আর চিত্রনাট্যকাররা ২১ সপ্তাহ কাজ করা থেকে বিরত থাকেন। গতবারের মতো এবারও বেশির ভাগ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রোডাকশনের কাজ প্রায় বন্ধ। চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক সংগঠন রাইটার্স গিল্ড অব আমেরিকার (ডব্লিউজিএ) সঙ্গে ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক বাণিজ্যিক সমিতি অ্যালায়েন্স অব মোশন পিকচার অ্যান্ড টেলিভিশন প্রোডিউসার্সের (এএমপিটিপি) দ্বন্দ্ব বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে চরমে পৌঁছায়। একপর্যায়ে ২ মে রাইটার্স গিল্ড অব আমেরিকা ধর্মঘট শুরু করে। ১১ হাজার ৫০০ চিত্রনাট্যকার এই সংগঠনের সদস্য। চলতি মাসের ১৩ তারিখে চিত্রনাট্যকারদের ধর্মঘটে সংহতি জানিয়ে তাতে যোগ দেয় আরেক মার্কিন শ্রমিক সংগঠন স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড-আমেরিকান ফেডারেশন অব টেলিভিশন অ্যান্ড রেডিও আর্টিস্টস (এসএজি-এএফটিআরএ)। এই সংগঠনে ম্যাট ডেমন, এমিলি ব্লান্ট, কিলিয়ান মারফির মতো তারকা অভিনেতাসহ প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার শিল্পী আছেন। লক্ষণীয় বিষয় হলোÑ ১৩ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেলে লন্ডনে বিশ্বখ্যাত পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলানের বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ওপেনহাইমারের প্রিমিয়ার শো ছিল। অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন সিনেমাটির অভিনেতা ম্যাট ডেমন, এমিলি ব্লান্ট, কিলিয়ান মারফিসহ অন্যরা। ম্যাট ডেমনরা যখন শুনলেন তাদের সংগঠন এসএজি-এএফটিআরএ ধর্মঘটে যোগ দিয়েছে, সঙ্গে সঙ্গে তারা অনুষ্ঠান শেষ না করেই বের হয়ে যান। বড় পর্দায় ওপেনহাইমারের প্রিমিয়ার শো শুরুর আগমুহূর্তে পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলান দর্শকদের জানান, ধর্মঘট পালনকারীদের দাবি-দাওয়া ব্যানার-ফেস্টুনে লেখার জন্য অভিনেতাদের চলে যেতে হয়েছে। সম্প্রতি এসএজি-এএফটিআরএর প্রেসিডেন্ট ফ্রান ড্রেসচার হলিউডের নির্বাহীদের অর্থলিপ্সার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘নির্বাহীরা আমাদের সঙ্গে যে ধরনের আচরণ করেন, তা মর্মান্তিক। বিক্ষোভকারীরা তাদের দারিদ্র্যের কথা বলেছেন। তারা প্রতি বছর কোটি কোটি ডলার তাদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) হাতে তুলে দেন, অথচ নিজেরা দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করেন। এটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। নির্বাহীদের এহেন কর্মকাণ্ডের ধিক্কার জানাই!’
ধর্মঘটের কারণ
হলিউডের অভিনয়শিল্পী ও চিত্রনাট্যকাররা যেসব কারণে ধর্মঘট করছেন, সেসব মোটা দাগে এক। রাইটার্স গিল্ড অব আমেরিকা (ডব্লিউজিএ) ও এসএজি-এএফটিআরএ মুনাফার ন্যায্য ভাগ চাইছেন। একই সঙ্গে তারা আরও ভালো পরিবেশে কাজ করতে চাইছেন। অভিনয়শিল্পী ও চিত্রনাট্যকারদের অভিযোগ, বেশ কয়েকটি কারণে তাদের আয় কমে গেছে। এর একটি কারণ রেসিডুয়াল পে বা পুনঃপ্রদর্শন সম্মানী কমে যাওয়া। রেসিডুয়াল পে বলতে বোঝায় যখন কোনো সিনেমা বা টেলিভিশন প্রোগ্রাম পুনঃপ্রচার হতে থাকে, তখন তাতে অভিনয় করা ও চিত্রনাট্য লেখা ব্যক্তিদের প্রতিবার সম্মানী দিতে হয়। এটি এক ধরনের রয়্যালটি। যুক্তরাষ্ট্রের চলচ্চিত্র ও বিনোদনবিষয়ক ম্যাগাজিন হলিউড রিপোর্টারের সম্পাদক কিম মাস্টার্স বলেন, ‘টেলিভিশনের যুগে সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে অভিনয়শিল্পী ও চিত্রনাট্যকাররা পুনঃপ্রদর্শন সম্মানী পেতেন। এখন মোবাইল-ইন্টারনেটের যুগে তারা জানেন না, কোথায় তাদের কাজ পুনঃপ্রচার হচ্ছে, কারণ স্ট্রিমাররা (যেমন নেটফিক্স, আমাজন যারা ইন্টারনেটে সিনেমা, টিভি প্রোগ্রাম দেখায়) এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য তাদের দেয় না। ফলে অভিনয়শিল্পী ও চিত্রনাট্যকাররা রেসিডুয়াল পে থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’ নেটফ্লিক্স বা আমাজনের মতো স্ট্রিমিং মিডিয়া কোম্পানিগুলো কেবল মাঝারি বাজেটের সিনেমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, একই সঙ্গে তারা দর্শকদের সামনে চলচ্চিত্র বা টেলিভিশন শো উপস্থাপন পদ্ধতি ও আয়ের পথ পুরোপুরিই পাল্টে দিয়েছে। স্ট্রিমাররা সাবস্ক্রাইবারদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে। এ ছাড়া তাদের আয়ের অন্য পথও আছে। কোনো সিনেমা বা টেলিভিশন শো নেটফ্লিক্স বা আমাজনে যখন থাকে, তখন তা চিরকালের জন্যই থাকে। তাদের অভিধানে রিব্রডকাস্ট বা পুনঃপ্রচার বলে কিছু নেই। এ কারণে অভিনয়শিল্পী, চিত্রনাট্যকারসহ অন্যরা কেউই তাদের রয়্যালটি পাচ্ছেন না, যা তারা এক সময় পেতেন।
অস্কারজয়ী অভিনয়শিল্পী মেরিল স্ট্রিপ, ম্যাট ডেমনসহ অন্যরা মনে করেন, বেতন না বাড়া ও রেসিডুয়াল পে না পাওয়ার কারণে শত শত চলচ্চিত্র ও টিভি শোতে কাজ করা হাজারো অভিনেতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এসএজি-এএফটিআরএ প্রেসিডেন্ট ফ্রান ড্রেসচার বলেন, ‘হলিউডের সব অভিনয়শিল্পী ধনী, এমন ধারণা ভুল। এখানকার বেশির ভাগ অভিনেতাই আর দশজন সাধারণ কর্মজীবী মানুষের মতো ঘর ভাড়া, ছেলেমেয়েদের স্কুল-কলেজের খরচ, পরিবারের সবার মুখে খাবার তুলে দেওয়ার চিন্তায় থাকেন। সিনেমা হলের পর্দা, টেলিভিশন বা মোবাইলে যাদের দেখে আমরা আনন্দ পাই, যারা আমাদের বিনোদন দেন, তাদের বড় অংশই খুব একটা পারিশ্রমিক পান না।’
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের সংস্থা ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্যমতে, ২০২২ সালে হলিউডে অভিনয়শিল্পীদের গড় বেতন ছিল প্রতি ঘণ্টায় ২৭ ডলার ৭৩ সেন্ট। কোনো একটি টেলিভিশন শোতে এক সপ্তাহের জন্য কাজ করা একজন অভিনয়শিল্পীকে সর্বনিম্ন ৩ হাজার ৭৫৬ ডলার দেওয়া হয়। এ বিষয়ে ২০ বছরের বেশি সময় ধরে টেলিভিশনে কাজ করা অভিনেত্রী কেলি স্টুয়ার্ট বলেন, ‘ওই পরিমাণ অর্থ অভিনয়শিল্পীরা ঘরে নিয়ে যেতে পারেন না। আয়কর ও কমিশনের পেছনে অনেক টাকা চলে যায়। এজেন্ট, ম্যানেজার ও আইনজীবীকে (যিনি শিল্পীর হয়ে চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেন) কমিশন দেওয়া লাগে। অভিনয়শিল্পীর সর্বনিম্ন যে মজুরি, তার ৩৫ শতাংশ এসবের পেছনেই ব্যয় হয়।’ এদিকে অভিনয়শিল্পী ও চিত্রনাট্যকারদের দাবি-দাওয়ার বিষয়ে হলিউডের বড় বড় স্টুডিও ও স্ট্রিমারদের প্রতিনিধিত্ব করা ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক সমিতি অ্যালায়েন্স অব মোশন পিকচার অ্যান্ড টেলিভিশন প্রোডিউসার্স (এএমপিটিপি) জানায়, তারা অভিনয়শিল্পী ও চিত্রনাট্যকারদের পর্যাপ্ত পারিশ্রমিক ও পেনশন দেয়। তবে হলিউড বর্তমানে বেশ কিছু সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। করোনাভাইরাস মহামারীর পর সিনেমা হলে লোকজন আগের মতো যাচ্ছেন না। অনেক স্টুডিও দেখছে, তাদের শেয়ারের মূল্য হ্রাস পাচ্ছে এবং তাদের মুনাফা কমে যাচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কয়েকটি কোম্পানি কর্মী ছাঁটাই করতে বাধ্য হচ্ছে বা প্রকল্প বন্ধ করে দিচ্ছে বা দুটোই করছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পদধ্বনি
পারিশ্রমিক ছাড়াও অভিনয়শিল্পীরা আরেকটি কারণে ধর্মঘট করছেন এবং তা হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অগ্রগতি। ছয় মাস আগেও কারোরই এ নিয়ে মাথাব্যথা ছিল না। যে পদ্ধতিতে সিনেমার দৃশ্য বানানো হয়, সেই দীর্ঘ ও সময়সাপেক্ষ পদ্ধতি ব্যবহার না করে এআই প্রযুক্তি চোখের পলকে সেই দৃশ্য নিখুঁতভাবে বানাতে পারবে, এমনটা দুদিন আগেও কেউ ভাবেনি। কিন্তু এআইয়ের অগ্রগতি দেখে সবাই চিন্তিত। গত কয়েক মাসে এ নিয়ে স্টুডিও মালিকদের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে রাইটার্স গিল্ড অব আমেরিকা ও এসএজি-এএফটিআরএ। শ্রমিক সংগঠন দুটি মনে করছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তাদের সৃষ্টিশীল পেশার অস্তিত্বের জন্য হুমকি। এসএজি-এএফটিআরএর পক্ষ থেকে স্টুডিও মালিক ও প্রযোজকদের সঙ্গে যারা আলোচনা করছেন, তাদের প্রধান ডানকান ক্র্যাবট্রি আয়ারল্যান্ড। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রযোজকদের প্রস্তাবের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ব্যাকগ্রাউন্ড আর্টিস্টদের একদিনের মজুরি দিয়ে তাদের চেহারা স্ক্যান করার চিন্তা করছেন প্রযোজকরা। এরপর সেসব আর্টিস্টদের স্ক্যান করা ছবি যে কোনো প্রজেক্টে অনন্তকাল ধরে ব্যবহার করবেন তারা। ব্যাকগ্রাউন্ড আর্টিস্টদের অনুমতি ও কোনো মজুরি ছাড়াই এই কাজ করা হবে।’
কারও কারও মতে, একটি অসাধারণ চিত্রনাট্য লিখতে যে মানবিক গুণাবলি দরকার, তা এআইয়ের নেই। আবার অনেকে মনে করছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিত্রনাট্যকারদের বেকার করবে। ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যের শ্রমিক সংগঠন রাইটার্স গিল্ড অব গ্রেট ব্রিটেন (ডব্লিউজিজিবি) উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, চিত্রনাট্যকারদের অনুমতি না নিয়ে ও কপিরাইটের তোয়াক্কা না করে এআই ডেভেলপাররা তাদের কাজ ব্যবহার করছে। এ ছাড়া কনটেন্ট তৈরিতে কোথায় কোথায় এআইয়ের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে, তা এআই টুলস শনাক্ত করতে পারে না। এমনটা চলতে থাকলে চিত্রনাট্যকারদের বেতন ভবিষ্যতে উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে। ডব্লিউজিজিবির সহ-সাধারণ সম্পাদক লেজলি গ্যানন বলেন, ‘এআইয়ের ব্যবহার যদি বাড়ে, তাহলে বিনোদন শিল্পে শূন্যতা সৃষ্টি হবে। অভিনয়শিল্পী ও চিত্রনাট্যকারদের অধিকার রক্ষায় নীতি প্রণয়ন জরুরি।’ ডিজিটাল ক্লোনিং প্রযুক্তির বিশেষজ্ঞ ড. ম্যাথিল্ড প্যাভিস বলেন, ‘আমার ভাবতে অবাক লাগে, একজন ব্যক্তির চেহারা, গলার স্বর তার গাড়ি, ল্যাপটপ, ফোন, বাড়ি বা বইয়ের চেয়েও কম নিরাপদ। আমরা জানতাম না, একসময় আমরা এতটাই অসহায় হয়ে পড়ব যে, এআই প্রযুক্তির সাহায্যে আমাদের বারবার ব্যবহার করা যাবে, অনুকরণ করা যাবে।’
প্রভাব
অভিনয়শিল্পী ও চিত্রনাট্যকারদের চলমান ধর্মঘটে হলিউড একরকম বন্ধ হয়ে গেছে বলা চলে। এমনকি যেসব সিনেমার শুটিং শেষ, সেগুলোর কাজও বাধাগ্রস্ত হতে পারে, কারণ পুনরায় শুট করাসহ চলচ্চিত্র নির্মাণের অন্য কাজে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা না হলে অভিনয়শিল্পীরা নিজেদের যুক্ত করবেন না। এসএজি-এএফটিআরএর নির্দেশিকা অনুযায়ী, ধর্মঘট চলাকালে অভিনয়শিল্পীরা তাদের আসন্ন সিনেমা প্রচার করতে পারবেন না বা প্রিমিয়ার শোতে উপস্থিত থাকতে পারবেন না। এ কারণে লন্ডনে ক্রিস্টোফার নোলানের সিনেমা ওপেনহাইমারের প্রিমিয়ার শোতে উপস্থিত থাকার সময় এসএজি-এএফটিআরএ ধর্মঘটে যোগ দেওয়ার খবর ম্যাট ডেমন, কিলিয়ান মারফিরা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই শো তারা ত্যাগ করেন। এ ছাড়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, যেসব সিনেমার কাজ ধর্মঘটের আগে শেষ হয়েছে, সেসব সিনেমা নিয়ে কোনো সাক্ষাৎকার দেওয়া, এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেসব সিনেমাসংক্রান্ত কোনো পোস্ট দেওয়ার অনুমতি অভিনয়শিল্পীদের নেই। যেসব টেলিভিশন সিরিজ নির্মাণের কাজ চলছে, সেগুলোর কাজেও ধীরগতি আসবে। আগামী সেপ্টেম্বরে মর্যাদাপূর্ণ এমি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ধর্মঘট চলতে থাকলে এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানও পিছিয়ে যেতে পারে। চিত্রনাট্যকাররা যখন মে মাসে ধর্মঘট শুরু করেন, সে সময় দেরিতে মুক্তি পাওয়া সিনেমা ও টেলিভিশন শোয়ের তালিকা কম দীর্ঘ ছিল না। এ মাসে অভিনয়শিল্পীরা ধর্মঘটে যোগ দিয়ে এই তালিকা আরও দীর্ঘ করলেন। বিশাল বাজেটের যেসব সিনেমা ধর্মঘটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তার মধ্যে আছে অ্যাভাটার থ্রি, ক্যাপ্টেন আমেরিকা : ব্রেভ নিউ ওয়ার্ল্ড ও ডেডপুল থ্রি।