ডেঙ্গুতে শিশুরাই আক্রান্ত হয় বেশি

শহরাঞ্চলে ডেঙ্গু মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। শিশু ও বয়স্করাই এই রোগের বড় ঝুঁকিতে। ডেঙ্গু জ¦রের রোগীদের চিকিৎসার জন্য এ, বি ও সি এই তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়। ‘এ’ ক্যাটাগরির রোগীরা স্বাভাবিক থাকে। হাসপাতালে না নিয়ে বাড়িতে বিশ্রাম নেওয়াই যথেষ্ট।

লক্ষণ : উচ্চ তাপমাত্রায় জ¦র। তাপমাত্রা ১০২ থেকে ১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে। তীব্র মাথাব্যথা। চোখের পেছনে ব্যথা অনুভূতি। মাংসপেশি ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা। বমির ভাব। মাথা ঘোরা। গ্রন্থি ফুলে যাওয়া। ত্বকের ফুসকুড়ি ওঠা। সাধারণত ২ - ৭ দিন পর্যন্ত উপসর্গগুলো স্থায়ী হতে পারে। এই পর্যায়ে রোগীরা মুখে তরল খাবার খেতে পারে এবং প্রতি ৬ ঘণ্টায় কমপক্ষে একবার প্রস্রাব হওয়া স্বাভাবিক বলে ধরে নিতে হবে। দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত  রোগীর ভয়াবহতা বেশি।

করণীয় : প্রচুর তরলজাতীয় খাবার যেমন- ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ফলের রস ও খাওয়ার স্যালাইন খেতে হবে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রোটিনজাতীয় খাবার খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে। ডেঙ্গু জ¦রে প্যারাসিটামল-জাতীয় ওষুধ খাওয়া যাবে। স্বাভাবিক ওজনের প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি দিনে সর্বোচ্চ ৮টি প্যারাসিটামল খেতে পারবেন। কিন্তু কোনো ব্যক্তির যদি লিভার, হার্ট ও কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতা থাকে, তাহলে প্যারাসিটামল সেবনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিবে রোগীকে মশারির ভেতর রাখা। ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত হলে অ্যাসপিরিন, ক্লোরোফেনাক, আইবুপ্রোফেন-জাতীয় ওষুধ খাওয়া যাবে না। ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত ‘বি’ ক্যাটাগরির রোগীদের ক্ষেত্রে কিছু বিপজ্জনক লক্ষণ দেখা দিলে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে। না হলে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম হওয়ার আশঙ্কা বেশি হবে। বয়োজ্যেষ্ঠ, এক বছরের কম বয়সী শিশু ও অন্তঃসত্ত্বা নারী যেকোনো সময় ‘বি’ ক্যাটাগরির রোগী হয়ে যেতে পারেন কোনো লক্ষণ না থাকলেও। ‘সি’ ক্যাটাগরির রোগীর অবস্থা সবচেয়ে খারাপ থাকে। শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যেমন- লিভার, কিডনি, মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। সে জন্য ‘বি’ ও ‘সি’ ক্যাটাগরির রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে।