কেসিসির সুরক্ষা ভ্যান ভাঙাড়ির দোকানে

তদারকির অভাবে ধুঁকছে খুলনা নগরীতে নিরাপদ পথ খাবার সরবরাহে সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) উদ্যোগ। দুই দফায় ৫০০ ‘সুরক্ষা ভ্যান’ বরাদ্দ দেওয়া হলেও এখন অর্ধেকেরও দেখা মেলে না নগরীতে। অনেকে ভ্যান নেওয়ার পর সেটি বিক্রি করে দিয়েছেন। অনেকে সেগুলো ভাঙাড়ির দোকান থেকে কিনে নতুন করে ব্যবসা করছেন। তবে হাতবদল হওয়া ভ্যানসহ যেগুলো চোখে পড়ে তার কোনোটিতে নেই স্বাস্থ্যকর খাবার। বেশিরভাগে সুরক্ষা ভ্যানেই চা, পান, সিগারেট বিক্রি হয়। কেসিসির সংশ্লিষ্ট দপ্তর বলছে, প্রকল্প মেয়াদ শেষ হওয়া, করোনা ও জনবল সংকটে নিয়মিত মনিটরিং করা সম্ভব হয়নি বলেই সত্যিকারের সুফল আসেনি এ উদ্যোগের।

কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, নগরীর সবার জন্য স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নিশ্চিত ও দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ‘নিরাপদ পথ খাবার ও কাঁচাবাজার উন্নয়ন প্রকল্প’ হাতে নেওয়া হয় প্রায় ১০ বছর আগে। নেদারল্যান্ডস আর্থিক সহায়তা এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) কারিগরি সহযোগিতায় প্রকল্পের আওতায় সিটি করপোরেশন দুই দফায় সুরক্ষা ভ্যান দেওয়া হয়। প্রথম দফায় ২০১২ সালে ৩০০ এবং দ্বিতীয় দফা ২০১৫ সালে আরও ২০০ ভ্যান বিতরণ করা হয়। সেই সঙ্গে প্রত্যেক বিক্রেতাকে দেওয়া হয় ৫০ ধরনের তৈজসপত্র ও অ্যাপ্রোন। সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ১২০০ বিক্রেতাকে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়।

নগরী ঘুরে ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৫০০ সুরক্ষা ভ্যান বিতরণ করা হলেও অর্ধেক ভ্যান নগরীতে দৃশ্যমান নেই। যেগুলো দেখা মেলে তার বেশিরভাগ শর্ত ভেঙে ফুটপাতে রেখে স্থায়ীভাবে চা, পান ও সিগারেটের ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। বিকেলে হাতেগোনা কিছু ভ্যানে চটপটি ও ফুসকা বিক্রি হয়। কিন্তু সে ক্ষেত্রেও প্রদানকৃত তৈজসপত্র ব্যবহার হচ্ছে না এবং অ্যাপ্রোনও পরছেন না বিক্রেতা।

খুলনা এলজিইডি অফিসের সামনে ফুটপাতে সুরক্ষা ভ্যানে ব্যবসা করছেন গোবিন্দ নাথ। তিনি জানান, ভাঙাড়ির দোকান থেকে ছয় হাজার টাকায় গাড়িটি কিনে সেখানে তিনি ব্যবসা করছেন। শুধু তিনি না এমন অনেকে গাড়ি কিনে ব্যবসা করছেন। কেসিসির দেওয়া বেশিরভাগ গাড়িই বেচাকেনার মাধ্যমে হাতবদল হয়েছে। অনেকে কিনে নমুনা ও রঙ পরিবর্তন করেছেন। এ ছাড়া শহর ছেড়ে অনেকে গ্রামে গাড়ি নিয়ে  চলে গেছেন।

কাস্টমস ঘাট এলাকার চা বিক্রেতা রাফেজা বেগম বলেন, গাড়ি পাওয়ার পর অনেকে পুঁজির অভাবে বিক্রি করে দিয়েছেন। অনেকে বিক্রি করে ব্যবসা পরিবর্তন করেছেন। অনেকে গাড়ি নষ্ট হলে মেরামত করেননি। এভাবে গাড়ির সংখ্যা কমে গেছে।

নতুনবাজারের সামনের সড়কের পাশে গাড়িতে চা, পান ও সিগারেট বিক্রি করেন জ্যোৎস্না বেগম। তিনি বলেন, ছয় হাজার টাকায় সোবহান নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি গাড়িটি কিনেছেন। কেনার পর মেরামত করতে কিছু টাকা খরচ করে ব্যবহার করছেন।

হাজী মহসিন রোডে ব্যবসায়ী স্বপন সরকার বলেন, ২০১২ সালে করপোরেশন থেকে তিনি গাড়িটি পেয়েছেন। সে পর্যন্ত সেখানে চা, সিগারেট, পান, রুটি ও কলা বিক্রি করেন। কেউ তদারকিতেও যান না কখনো।

খুলনা টিআইবির সভাপতি ও সনাক সদস্য অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা বলেন, করপোরেশনের ভ্যানগাড়িতে বিদ্যালয়ের সামনে, মোড়ে ও সড়কে নিয়ম মেনে নিরাপদ পথ খাবার বিক্রি চোখে পড়ে না। মনিটরিংয়ের অভাবে এ দশা হয়েছে। এটি শেষ পর্যন্ত শুধুই অর্থ খরচের জন্য প্রকল্প হয়েছে।

সুরক্ষা ভ্যানের দেখাশোনার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের ভেটেরিনারি দপ্তরের। সেখানে দায়িত্বরত সার্জন ডা. পেরু গোপাল বিশ্বাস বলেন, করোনা সময়ে অনেক ভ্যানই পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে গেছে। মেয়াদ শেষ হওয়ায় প্রকল্পের লোকজনও এখন নেই।