রাজধানীর নীলক্ষেতে মসজিদের ভিতর দুই মুসল্লির হাতাহাতি ঠেকাতে গিয়ে শামসুল হক (৫৫) নামের এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। বুকে কিলঘুষি দেওয়ায় অসুস্থ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তার পরিচিত ব্যবসায়ী ও স্বজনরা।
বুধবার (২৬ জুলাই) বিকেলে আসরের নামাজের পর নীলক্ষেত জিলানী মার্কেটের ৩য় তলায় পাঞ্জেগানা মসজিদে এই হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। অচেতন অবস্থায় শামসুল হককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্বজনরা জানান, শামসুলের বাসা হাজারীবাগ ৮ নম্বর কুলাল মহল লেনে। জিলানী মার্কেটের ২য় তলায় ‘জীবন সাথী’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার। এক বছর আগে একবার স্ট্রোক করেছিলেন তিনি।
তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া গোলাম সাব্বির এরশাদ জানান, শামসুল হকসহ তারা সাদপন্থি তাবলিগ জামায়াত করেন। সপ্তাহে বুধবার সাদপন্থিরা আসরের নামাজের পর মসজিদের ভিতর ধর্মীয় বয়ান করেন। আজ ১০-১২ জন সাদপন্থি সেই বয়ানে অংশ নেন। তখন যুবায়ের পন্থি আনোয়ার হাওলাদার (৪০) তাদেরকে খারাপ ভাষায় শাঁসিয়ে মসজিদ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। গোলাম সাব্বির এরশাদ প্রতিবাদ করায় আনোয়ার তার পাঞ্জাবির কলার ধরে টেনে মসজিদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তখন আনোয়ারকে বাধা দেন শামসুল হক। ক্ষিপ্ত হয়ে তার বুকে কিলঘুষি মারেন আনোয়ার। এতে মসজিদের ভিতরই অচেতন হয়ে পড়েন শামসুল। সঙ্গে সঙ্গে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী ইনচার্জ (এএসআই) মো. মাসুদ জানান, অচেতন অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরিবার ও পরিচিত ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, তাকে মারধর করা হয়েছে, সেজন্য তার মৃত্যু হয়েছে। তবে বিষয়টি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।