রাজধানীর নীলক্ষেতে মসজিদের ভেতর দুই মুসল্লির হাতাহাতি থামাতে গিয়ে শামসুল হক (৫৫) নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। বুকে কিলঘুসি দেওয়ায় অসুস্থ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তার পরিচিত ব্যবসায়ী ও স্বজনরা।
গতকাল বুধবার বিকেলে আসরের নামাজের পর নীলক্ষেত জিলানী মার্কেটের তিনতলায় পাঞ্জেগানা মসজিদে এই হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। অচেতন অবস্থায় শামসুল হককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্বজনরা জানান, শামসুলের বাসা হাজারীবাগ ৮ নম্বর কুলাল মহল লেনে। জিলানী মার্কেটের দোতলায় ‘জীবন সাথী’ নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে তার। এক বছর আগে একবার স্ট্রোক করেছিলেন তিনি।
শামসুলকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া গোলাম সাব্বির এরশাদ জানান, ‘শামসুল হকসহ তারা সাদপন্থি তাবলিগ জামায়াত করেন। সপ্তাহে বুধবার তারা আসরের নামাজের পর মসজিদের ভেতর ধর্মীয় বয়ান করেন। আজ (গতকাল) ১০-১২ জন সাদপন্থি সেই বয়ানে অংশ নেন। তখন যুবায়েরপন্থি আনোয়ার হাওলাদার (৪০) তাদের খারাপ ভাষায় শাসিয়ে মসজিদ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। গোলাম সাব্বির এরশাদ প্রতিবাদ করায় আনোয়ার তার পাঞ্জাবির কলার ধরে টেনে মসজিদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তখন আনোয়ারকে বাধা দেন শামসুল হক। ক্ষিপ্ত হয়ে তার বুকে কিলঘুসি মারেন আনোয়ার। এতে মসজিদের ভেতরই অচেতন হয়ে পড়েন শামসুল। সঙ্গে সঙ্গে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী ইনচার্জ (এএসআই) মো. মাসুদ জানান, অচেতন অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরিবার ও পরিচিত ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, তাকে মারধর করা হয়েছে, সেজন্য তার মৃত্যু হয়েছে। তবে বিষয়টি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশকে জানানো হয়েছে।